স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
মাঙ্কিপক্সের নতুন নাম এমপক্স (Mpox)। এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত ত্বকে ফুসকুড়ি বা ফোসকার মতো ক্ষত এবং জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে। রোগটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী নয়, তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০২২ সালে ‘Monkeypox’-এর পরিবর্তে ‘Mpox’ নামটি ব্যবহারের সুপারিশ করে। রোগটি মূলত ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়।
আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বকের ক্ষত, শরীরের তরল, মুখোমুখি ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এবং দূষিত কাপড় বা অন্যান্য জিনিসের সংস্পর্শ থেকেও সংক্রমণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় আক্রান্ত হলে মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণের মধ্যেও ভাইরাসটি পৌঁছাতে পারে।
এমপক্সের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা এবং ত্বকে ফুসকুড়ি বা ফোসকার মতো ক্ষত। অনেক সময় ক্ষত মুখ, হাত-পা বা শরীরের অন্যান্য অংশে দেখা দিতে পারে। উপসর্গের ধরন ও তীব্রতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।
এমপক্স যেকোনো মানুষের হতে পারে। তবে ২০২২ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রাদুর্ভাবের অধিকাংশ সংক্রমণ নির্দিষ্ট ঘনিষ্ঠ বা যৌন সংস্পর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। তাই রোগটিকে শুধু একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর রোগ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
রোগ প্রতিরোধে আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার করা কাপড়, তোয়ালে বা বিছানার চাদর স্পর্শ না করা এবং হাত পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারও শরীরে সন্দেহজনক ফুসকুড়ি বা ক্ষত দেখা দিলে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এমপক্স প্রতিরোধে নির্দিষ্ট ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য টিকাদানের ব্যবস্থাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে Jynneos নামের টিকা এমপক্স প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে অস্বাভাবিক ফুসকুড়ি বা ফোসকার সঙ্গে জ্বর কিংবা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: CNN