স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০১ পি এম

জাপানের দীর্ঘায়ুর রহস্য: বয়স বাড়লেও সক্রিয় থাকার অভ্যাস

ছবি : সংগৃহীত

বয়স বাড়লেই শরীর-মন ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যাবে এমন ধারণা অনেকেরই। কিন্তু জাপানের কিছু প্রবীণের জীবনযাপন সেই ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে।

৮০, ৯০ এমনকি ১০০ বছর পেরিয়েও কেউ সাঁতার কাটছেন, কেউ দৌড়াচ্ছেন, কেউ নতুন শখ নিয়ে ব্যস্ত থাকছেন। তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, বয়স বাড়লেও সক্রিয় থাকা সম্ভব।

BBC-এর এক প্রতিবেদনে জাপানের কয়েকজন প্রবীণের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের জীবনযাপনে নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ, নতুন কিছু শেখার আগ্রহ এবং নিজের মতো করে লক্ষ্য ধরে রাখার বিষয়টি বিশেষভাবে দেখা যায়।

এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ মিয়েকো নাগাওকা। তিনি ৮০-এর দশকে সাঁতার শুরু করেন এবং পরবর্তী সময়ে ১০০ বছর বয়সে বই প্রকাশ করেন। ১০৫ বছর বয়সেও তিনি মাস্টার্স সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। আবার হিদেকিচি মিয়াজাকি ১০৫ বছর বয়সে ১০০ মিটার দৌড়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন তাঁর বয়সের শ্রেণিতে।

তবে সুস্থভাবে বয়স বাড়ার জন্য এমন কঠিন ক্রীড়া সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী নিয়মিত হাঁটা, স্ট্রেচিং, হালকা ব্যায়াম বা স্থানীয় কমিউনিটি কার্যক্রমে অংশ নেওয়াও উপকারী হতে পারে। এমনকি বেশি বয়সেও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশির শক্তি ধরে রাখা বা বাড়ানো সম্ভব।

শুধু শরীরচর্চাই নয়, মানসিকভাবে সক্রিয় থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কোনো শখ শেখা, বই পড়া, ছবি তোলা, গান বা বাদ্যযন্ত্র চর্চা, বাগান করা কিংবা স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকার মতো কর্মকাণ্ড জীবনকে অর্থবহ ও আনন্দময় রাখতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটির বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকলে একাকিত্ব কমতে পারে এবং প্রবীণদের মধ্যে সক্রিয় থাকার আগ্রহ তৈরি হতে পারে। জাপানে প্রবীণদের নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বাস্থ্যকর কার্যক্রম পরিচালনার উদাহরণও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনকে শুধু কোনো একটি খাবার, ব্যায়াম বা অভ্যাস দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, সামাজিক সম্পর্ক, মানসিক সুস্থতা এবং নিজের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি—সবকিছুর সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।

তাই বয়সকে থেমে যাওয়ার কারণ না বানিয়ে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী শরীর ও মনকে সক্রিয় রাখাই হতে পারে সুস্থ বার্ধক্যের অন্যতম চাবিকাঠি। বয়স বাড়বে, কিন্তু শেখার আগ্রহ, সামাজিক যোগাযোগ ও জীবনের প্রতি আগ্রহ ধরে রাখা সম্ভব।

 

সূত্র: বিবিসি