স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৭ পি এম

আঙুলের গিঁট ফোটালে কি আর্থ্রাইটিস হয়? জানুন আসল তথ্য

ছবি : সংগৃহীত

অনেকেই অভ্যাসবশত হাতের আঙুলের গিঁট ফোটান। ছোটবেলা থেকেই প্রচলিত একটি ধারণা হলো নিয়মিত আঙুল ফোটালে নাকি ভবিষ্যতে আর্থ্রাইটিস হতে পারে।তবে গবেষণায় এখন পর্যন্ত এর পক্ষে শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঙুলের গিঁট ফোটানোর সময় মূলত জয়েন্টের ভেতরের তরলে চাপের পরিবর্তন ঘটে এবং এতে গ্যাসের বুদবুদ তৈরি ও ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে ‘পট’ বা ‘ক্র্যাক’ শব্দটি হয়। সাধারণভাবে এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়।

দীর্ঘদিন ধরে গিঁট ফোটানোর সঙ্গে আর্থ্রাইটিসের সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। একটি গবেষণায় ২১৫ জন অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জীবনে কত বছর ধরে বা কত বেশি সময় ধরে কেউ আঙুল ফোটিয়েছেন তার সঙ্গে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকির উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক নেই।

গিঁট ফোটানোর কারণে হাতের শক্তি কমে যায় এমন ধারণারও স্পষ্ট প্রমাণ নেই। পুরোনো একটি গবেষণায় গিঁট ফোটানো ব্যক্তিদের গ্রিপ দুর্বল হওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তী গবেষণায় এই সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

তবে এর অর্থ এই নয় যে অতিরিক্ত জোরে বা ভুলভাবে জয়েন্ট ফোটানো নিরাপদ। বিশেষ করে আঙুলে অতিরিক্ত চাপ বা ঝাঁকুনি দিলে মচকে যাওয়া কিংবা টেনডনে আঘাত লাগার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই শুধু শব্দ করার জন্য জোর প্রয়োগ করা উচিত নয়।

সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে ঘাড় ফোটানোর ক্ষেত্রে। ঘাড়ের ভেতর গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু ও রক্তনালি রয়েছে। অতিরিক্ত বা জোরালোভাবে ঘাড় ফোটালে বিরল হলেও গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি থাকতে পারে।

তাই নিজের ঘাড় জোর করে ফোটানো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আঙুল ফোটানোর সময় যদি ব্যথা, ফোলা, জয়েন্ট নড়াতে সমস্যা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অর্থাৎ, শুধু আঙুলের গিঁট ফোটানোর অভ্যাস থাকলেই আর্থ্রাইটিস হবে—এমন প্রমাণ নেই। তবে ব্যথা বা অস্বস্তি থাকা অবস্থায় কিংবা অতিরিক্ত জোর প্রয়োগ করে জয়েন্ট ফোটানো ঠিক নয়।