স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ঢাকা: আত্মহত্যা প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেছেন, আত্মহত্যার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। তবে শুধু সরকারের একক প্রচেষ্টায় এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডির ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনে ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসোসিয়েশন ফর ডিজএবল্ড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব অব আহসান মঞ্জিল যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সারাদেশের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যাকে ‘না’ বলার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জীবনে যত বড় বিপদই আসুক, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। জীবনে ব্যর্থতা আসতেই পারে। একটি ব্যর্থতা কখনোই জীবনের শেষ নয়।
তিনি বলেন, ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে সাফল্যের জন্য বারবার চেষ্টা করতে হবে। নিরন্তর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই মানুষ জীবনে উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে। তাই কোনো সংকট বা ব্যর্থতার মুহূর্তে আত্মহত্যার মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে সমস্যা মোকাবিলার পথ খুঁজে নিতে হবে।
পরিবারের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আত্মহত্যাকে ‘না’ বলার পাশাপাশি পিতা-মাতা ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। নিজেদের সমস্যা ও অনুভূতিগুলো পরস্পরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে হবে।
তিনি বলেন, অনেক সময় মানুষ নিজের ভেতরের কষ্ট বা সংকট কারও কাছে প্রকাশ করতে পারে না। পরিবারে পারস্পরিক মতবিনিময় ও সহমর্মিতার পরিবেশ তৈরি হলে মানসিক চাপ ও হতাশা মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আত্মহত্যা প্রতিরোধে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিবাচক চিন্তা, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সচেতনতার মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধের বিষয়টি শুধু চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এডিপির চেয়ারম্যান রওশন আরা জামান। এতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন বক্তব্য রাখেন।
সেমিনারে আগত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনের অধ্যক্ষ আফরোজা শারমিন।
এর আগে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে অংশ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।