স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
শরীরে খাবার থেকে পাওয়া গ্লুকোজকে কোষে প্রবেশ করিয়ে শক্তি হিসেবে ব্যবহারে ইনসুলিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু দীর্ঘদিন অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবারের কারণে শরীরের কোষ ইনসুলিনের প্রতি কম সাড়া দিতে পারে। একে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বলা হয়।
তাই ইনসুলিনের কার্যকারিতা ভালো রাখতে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমও জরুরি।
নিয়মিত হাঁটা হতে পারে সহজ সমাধান
প্রতিদিন দ্রুতগতিতে হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার, ঘরের কাজ বা অন্য কোনো মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম শরীরকে ইনসুলিনের প্রতি আরও সংবেদনশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটাচলা করাও ভালো অভ্যাস।
খাবারের ক্ষেত্রে আঁশযুক্ত খাবারকে গুরুত্ব দিতে হবে
শাকসবজি, ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, ওটস ও অন্যান্য পূর্ণশস্যে থাকা খাদ্যআঁশ হজম ধীর করতে এবং খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বেড়ে যাওয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে।
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে
মাছ, ডিম, মুরগি, ডাল, ছোলা ও পরিমিত পরিমাণে বাদাম পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
একই সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটের পরিবর্তে কম প্রক্রিয়াজাত খাবার বেছে নেওয়া উপকারী।
ভাত পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে ভাতের সঙ্গে প্রচুর সবজি, ডাল এবং মাছ বা অন্য স্বাস্থ্যকর প্রোটিন রাখলে খাবারটি তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ হয়। সাদা পাউরুটি, মিষ্টি, কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কমানো উচিত।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরের অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে তা কমানোর চেষ্টা ইনসুলিনের কার্যকারিতা ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ডায়াবেটিস থাকলে শুধু খাবার পরিবর্তন করলেই সবসময় যথেষ্ট হয় না। রক্তে গ্লুকোজ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।