স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫১ এএম

চুলকানি দিয়ে শুরু, ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো পরিবারে—স্ক্যাবিস থেকে বাঁচবেন যেভাবে

ছবি : সংগৃহীত

তীব্র চুলকানি, ছোট ছোট লাল দানা আর রাতে চুলকানি বেড়ে যাওয়া এসব উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ এগুলো স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়ার লক্ষণ হতে পারে। এটি একটি ছোঁয়াচে চর্মরোগ, যা একজনের শরীর থেকে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

স্ক্যাবিসের জন্য দায়ী ক্ষুদ্র পরজীবী মাইট, যা ত্বকের ওপরের স্তরে ঢুকে ডিম পাড়ে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ওই মাইট ও তার উপাদানের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখালে তীব্র চুলকানি ও র‍্যাশ তৈরি হয়। বিশেষ করে রাতে চুলকানি অনেক বেশি হতে পারে।
সাধারণত আঙুলের ফাঁক, কবজি, কনুই, কোমর, বগল, নাভির আশপাশ, নিতম্ব ও যৌনাঙ্গের আশপাশে ছোট ছোট দানা বা সরু দাগ দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে মাথা, মুখ, হাতের তালু ও পায়ের তলাতেও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

স্ক্যাবিস খুব সহজে ছড়াতে পারে। একই বাড়িতে একাধিক মানুষের মধ্যে একই ধরনের চুলকানি দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। দীর্ঘ সময় ত্বকের সঙ্গে ত্বকের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানার চাদর ও তোয়ালে থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

তবে স্ক্যাবিস মানেই অপরিষ্কার থাকা নয়। নিয়মিত গোসল করলেও এই রোগ হতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে দোষারোপ না করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গুরুত্বপূর্ণ।

স্ক্যাবিসের চিকিৎসায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাইটনাশক ওষুধ ত্বকে ব্যবহার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে একই সময়ে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদেরও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, কারণ উপসর্গ না থাকলেও কেউ সংক্রমিত থাকতে পারেন। ব্যবহৃত কাপড়, তোয়ালে ও বিছানার চাদর নিয়ম অনুযায়ী ধুয়ে পরিষ্কার করাও জরুরি।

চিকিৎসা শুরু করার পরও কিছুদিন চুলকানি থাকতে পারে। তাই নিজের ইচ্ছায় বারবার ওষুধ ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। শিশু, গর্ভবতী নারী কিংবা ত্বকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া র‍্যাশের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্ক্যাবিসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একজনের চিকিৎসা করলেই সবসময় সমস্যা শেষ হয় না। পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে সংক্রমণ থাকলে আবারও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।