স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ এএম

ব্রাশ করলেই হবে না, মুখের ভালো ব্যাকটেরিয়ার জন্যও চাই সঠিক খাবার

ছবি : সংগৃহীত

দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্রাশ ও ফ্লস করার গুরুত্ব আমরা সবাই জানি। তবে মুখের ভেতরে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোর সুস্থ ভারসাম্যও মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর এই ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিদিনের খাবারের ধরনও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

মুখের ভেতরে প্রায় ৭০০ ধরনের ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন অণুজীব বসবাস করে। এদের মধ্যে কিছু ব্যাকটেরিয়া দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির সমস্যার সঙ্গে জড়িত, আবার কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর জীবাণুর বিস্তার ঠেকাতে সাহায্য করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত চিনি ও সহজে ভেঙে যায় এমন পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। ফলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে ক্যাভিটি বা দাঁতে গর্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সাদা পাউরুটি, বিস্কুট, কেক ও অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার তাই নিয়মিত বেশি খাওয়া ভালো নয়।
অন্যদিকে শাকসবজি, বিশেষ করে পালংশাক, কেল, বিট ও মুলার মতো নাইট্রেটসমৃদ্ধ সবজি মুখের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে সহায়তা করতে পারে। এসব ব্যাকটেরিয়া নাইট্রেটকে নাইট্রাইটে রূপান্তর করে এবং শরীরের নাইট্রিক অক্সাইড ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালিকে প্রসারিত করতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

রসুনেও রয়েছে অ্যালিসিন নামের একটি যৌগ, যা কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। তবে রসুন খেলে মুখের দুর্গন্ধ হতে পারে—এ বিষয়টিও মনে রাখা দরকার।

ফল ও বেরিজাতীয় খাবারেও থাকা পলিফেনল মুখের কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ও দাঁতে প্লাক জমার প্রক্রিয়া কমাতে সহায়তা করতে পারে। চায়ের পলিফেনল নিয়েও গবেষণায় মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে চা অবশ্যই অতিরিক্ত চিনি ছাড়া বা কম চিনি দিয়ে খাওয়া ভালো।
চিজ বা পনির চিবিয়ে খাওয়ার সময় লালা নিঃসরণ বাড়ে। লালা মুখের অতিরিক্ত চিনি পরিষ্কার করতে এবং ব্যাকটেরিয়া তৈরি করা অ্যাসিডের প্রভাব কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। কেফিরের মতো কিছু ফারমেন্টেড খাবারেও উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা মুখের ক্ষতিকর জীবাণুর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের সুস্থ মাইক্রোবায়োমের জন্য কোনো একটি খাবারকে ‘সুপারফুড’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, ডাল, গোটা ফল ও আঁশযুক্ত খাবারসমৃদ্ধ সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বারবার মিষ্টি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার অভ্যাস কমাতে হবে।

তবে স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই দাঁত ও মাড়ির যত্ন সম্পূর্ণ হয় না। নিয়মিত দাঁত ও জিহ্বা পরিষ্কার করা এবং দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার রাখাও জরুরি। মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত ব্রাশ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্লস করার অভ্যাস বজায় রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: বিবিসি