স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৩ পি এম

বিএমইউতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার শতকোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন

ফাইল ছবি

ঢাকা: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার আয় থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে কোটি কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে প্যাথলজিক্যাল, ইমেজিং, রেডিওলজিক্যাল ও হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে পাওয়া অর্থের হিসাব। সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট লভ্যাংশের ৩০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পাওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, ব্যয় বাদ না দিয়ে মোট আয়ের ওপরই ৩০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

তিনি বলেন, বিএমইউ-সংক্রান্ত আটটি অডিট আপত্তি বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু আপত্তি নিষ্পত্তি হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সরেজমিন তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ ভাগ-বাটোয়ারার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ড. তাহের বলেন, কোনো পরীক্ষা থেকে ১০০ টাকা আয় হলে এবং ওই পরীক্ষা পরিচালনায় ৯০ টাকা ব্যয় হলে প্রকৃত লভ্যাংশ থাকে ১০ টাকা।

নিয়ম অনুযায়ী এই ১০ টাকার ৩০ শতাংশ হিসাব করার কথা। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যয় বাদ না দিয়ে পুরো ১০০ টাকার ওপর ৩০ শতাংশ অর্থ নেওয়া হয়েছে।

এভাবে হিসাব করার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল পরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃতপক্ষে কত টাকা এভাবে নেওয়া হয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহাবুবুর রহমানকে প্রধান করে একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সরেজমিনে তদন্ত করে এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ড. তাহের বলেন, অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তা যেকোনো মূল্যে আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রতি মাসে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের ব্যয় পর্যালোচনা, অডিট আপত্তি পরীক্ষা এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

তিনি জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো অডিট আপত্তির পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ সালের অডিট আপত্তিগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে, যাতে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা যায়।

বিভিন্ন সরকারের সময়ের অডিট আপত্তিও পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হবে জানিয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, যেসব ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে।

সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে কমিটির প্রতিটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমকে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।