স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ঢাকা: ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অসুস্থ ও চলাচলে অক্ষম রোগীদের হুইলচেয়ার দেওয়ার বিনিময়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে এক নারীকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আটক করেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান সাগর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডা. মেহেদী হাসান সাগর অভিযোগ করেন, ওই নারী নিজের হুইলচেয়ার নিয়ে হাসপাতালে এসে চলাচলে অক্ষম রোগীদের সহায়তার নামে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে একটি হুইলচেয়ারের জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হতো বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
পোস্টে বলা হয়, সরকারি হাসপাতালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর অসুস্থ বা হাঁটাচলায় অক্ষম থাকেন। এ ধরনের রোগীদের প্রয়োজনের সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ হুইলচেয়ার সরবরাহের বিনিময়ে অর্থ আদায় করলে অসহায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি আরও বাড়ে।
ডা. মেহেদী হাসান সাগরের পোস্ট অনুযায়ী, অভিযুক্ত নারী প্রায় ৫ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি হুইলচেয়ার কিনে হাসপাতাল এলাকায় সেটি ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন করতেন।
প্রতিদিন ৩০ জন রোগীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হলে মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করা সম্ভব, এমন একটি হিসাবও পোস্টে তুলে ধরা হয়েছে।
পোস্টে এ ধরনের অর্থ আদায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি হাসপাতালের সেবাব্যবস্থা ও রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে রোগীর স্বজনরা প্রয়োজনীয় সেবা পেতে বাধ্য হওয়ায় তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডা. মেহেদী হাসান সাগর তার পোস্টে চিকিৎসকদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবন ও দায়িত্বের বিপরীতে এ ধরনের অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জনের প্রবণতার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।
তিনি জুনিয়র ইন্টার্ন, ট্রেইনি চিকিৎসক ও সরকারি পর্যায়ের সিনিয়র চিকিৎসকদের বেতন-ভাতার সঙ্গে কথিত হুইলচেয়ার ব্যবসার আয়ের তুলনা করে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে উল্লিখিত আয়, হুইলচেয়ার ভাড়ার নির্দিষ্ট হার এবং ওই নারীর বিরুদ্ধে নেওয়া পরবর্তী আইনগত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে যে সেবাগুলো দেওয়ার কথা, সেগুলোকে কেন্দ্র করে কেউ ব্যক্তিগতভাবে অর্থ আদায় করলে তা বন্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে হুইলচেয়ার, স্ট্রেচারসহ জরুরি সহায়ক সেবাগুলো যেন অসাধু ব্যক্তিদের আয়ের উৎসে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।