স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি ও ফল রাখা জরুরি। তবে শুধু কয়েক ধরনের খাবার খাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদজাত খাবার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, খাবারের বৈচিত্র্য অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর বৈচিত্র্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এ কারণে সপ্তাহে ৩০ ধরনের উদ্ভিদজাত খাবার খাওয়ার ধারণাটি পুষ্টিবিজ্ঞানে গুরুত্ব পাচ্ছে।
অন্ত্রে অসংখ্য অণুজীব বসবাস করে। এদের মধ্যে অনেক জীবাণু খাবার হজম, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
উদ্ভিদজাত খাবারে থাকা আঁশ ও অন্যান্য উপাদান এসব জীবাণুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস অন্ত্রের জীবাণুর বৈচিত্র্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদজাত খাবার খেতে দামি বা বিদেশি খাবারের প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের পরিচিত ও সহজলভ্য খাবার দিয়েই খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনা সম্ভব।
শাকসবজি: লালশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, লাউ, বেগুন, ঢেঁড়স, করলা, মিষ্টিকুমড়া, গাজর ও টমেটো।
ফল: কলা, পেয়ারা, পেঁপে, আম, কাঁঠাল, বরই ও কমলা।
ডাল ও শিমজাতীয় খাবার: মসুর ডাল, মুগ ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, শিম ও বরবটি।
শস্য: লাল চাল, লাল আটার রুটি, ওটস ও ভুট্টা।
বাদাম ও বীজ: চিনাবাদাম, তিল, কুমড়ার বীজ ও সূর্যমুখীর বীজ।
এ ছাড়া পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ধনেপাতা, হলুদ, জিরা ও ধনিয়ার মতো মসলা ও ভেষজ উপাদানও খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য যোগ করতে পারে।
খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনতে একসঙ্গে অনেক খাবার কেনার প্রয়োজন নেই। সকালের নাশতায় রুটির সঙ্গে সবজি বা মৌসুমি ফল রাখা যায়। দুপুরে ভাতের সঙ্গে ডাল, শাক ও বিভিন্ন ধরনের সবজি খাওয়া যেতে পারে। বিকেলের নাশতায় বিস্কুট বা ভাজাপোড়ার পরিবর্তে ফল, সেদ্ধ ছোলা কিংবা অল্প পরিমাণ চিনাবাদাম বেছে নেওয়া যায়।
প্রতিদিন একই ধরনের সবজি না খেয়ে সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন শাকসবজি ও ডাল খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। মৌসুমি ফল ও সবজি বেছে নিলে খরচও তুলনামূলক কম রাখা সম্ভব। শুকনা ডাল ও বীজ সংরক্ষণ করে রাখলে প্রয়োজনমতো খাবারে যোগ করা সহজ হয়।
এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, একই খাবার বারবার খেলেও সেটিকে নতুন ধরনের খাবার হিসেবে গণনা করা যায় না। যেমন, সপ্তাহে সাত দিন কলা খেলেও তা এক ধরনের উদ্ভিদজাত খাবার হিসেবেই বিবেচিত হবে। মূল লক্ষ্য হলো, প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদজাত উপাদান যুক্ত করা।
না। সপ্তাহে ৩০ ধরনের উদ্ভিদজাত খাবার খাওয়াকে কঠোর নিয়ম হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। ২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে অন্তত ৩০ ধরনের উদ্ভিদজাত খাবার খাওয়ার কথা জানিয়েছেন এমন ব্যক্তিদের অন্ত্রের জীবাণুর বৈচিত্র্য তুলনামূলক বেশি ছিল, যাঁরা সপ্তাহে ১০ ধরনের কম উদ্ভিদজাত খাবার খেতেন তাঁদের তুলনায়।
শুধু খাবারের সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না, পুষ্টির ভারসাম্যও বজায় রাখতে হবে। শাকসবজি, ফল, ডাল, গোটা শস্য, বাদাম ও বীজের পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ফলের ধরন ও পরিমাণ নিজের খাদ্যপরিকল্পনা অনুযায়ী বেছে নেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর বৈচিত্র্য বজায় রাখতে প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদজাত খাবার রাখা ভালো অভ্যাস। দামি খাবারের পেছনে না ছুটে দেশি ও মৌসুমি শাকসবজি, ফল, ডাল, শস্য, বাদাম ও বীজের সমন্বয়ে গড়ে তোলা যায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।