স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
সুস্থ থাকতে সব সময় দামি খাবার, কঠিন ডায়েট কিংবা জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মনের সুস্থতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।অন্যদিকে, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অপর্যাপ্ত ঘুম ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয় বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী, সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের রুটিনে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
১. খাবারের পাতে রাখুন বৈচিত্র্য
শরীর সুস্থ রাখতে শুধু পেট ভরালেই চলবে না, নিশ্চিত করতে হবে প্রয়োজনীয় পুষ্টিও। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল, ডাল, বাদাম, পূর্ণশস্য এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। ডব্লিউএইচওর পরামর্শ অনুযায়ী, ১০ বছরের বেশি বয়সীদের প্রতিদিন অন্তত ৪০০ গ্রাম ফল ও শাকসবজি খাওয়ার লক্ষ্য রাখা উচিত।
২. লবণ ও অতিরিক্ত চিনি কমান
অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে, বেশি চিনি গ্রহণ ওজন বৃদ্ধি এবং দাঁতের ক্ষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ৫ গ্রামের কম লবণ খাওয়া উচিত। কোমল পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টি চা, মিষ্টি ও চিনিযুক্ত প্যাকেটজাত খাবারও সীমিত রাখুন।
৩. প্রতিদিন হাঁটুন, কমান দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা
নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম করা উচিত। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো ও নাচ এর অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘদিন ব্যায়াম না করলে অল্প সময় হাঁটা দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় বাড়ান।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে পানি গুরুত্বপূর্ণ। পানির চাহিদা নির্ভর করে আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম, বয়স ও স্বাস্থ্যের ওপর। গরমে বা বেশি ঘাম হলে পানির প্রয়োজন বাড়ে। মিষ্টি পানীয়ের বদলে সাধারণ পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৫. ঘুমের সময় ঠিক রাখুন
পর্যাপ্ত ঘুম শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য জরুরি। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠা, রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইলের ব্যবহার কমানো এবং শান্ত পরিবেশে ঘুমানো ভালো অভ্যাস।
৬. মানসিক চাপ সামলাতে সময় দিন
দৈনন্দিন কাজের চাপ ও দুশ্চিন্তা শরীর ও মনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত হাঁটা, পছন্দের কাজ করা, ধীরে শ্বাস নেওয়ার অনুশীলন এবং পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করে। উদ্বেগ বা মন খারাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে পেশাদার সহায়তা নেওয়া জরুরি।
৭. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো রোগ অনেক সময় শুরুতে স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থাকে। তাই বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষা করান। কোনো রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা ও জীবনযাপনের পরিবর্তন অনুসরণ করুন।
সুস্থ থাকার জন্য একদিনে সব অভ্যাস বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন কিছুটা হাঁটা, খাবারে শাকসবজি বাড়ানো কিংবা ঘুমের নির্দিষ্ট সময় ঠিক করার মতো ছোট পরিবর্তন দিয়ে শুরু করুন। ধীরে ধীরে এসব অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠলে তা দীর্ঘমেয়াদে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC)।