স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
গরমে, ব্যায়াম করার সময় কিংবা মানসিক চাপে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু লক্ষ করলে দেখা যায়, কারও ঘামে তেমন গন্ধ হয় না, আবার কারও বগল বা শরীর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হয়। প্রশ্ন হলো, একই পরিবেশে থেকেও মানুষের ঘামের গন্ধে এত পার্থক্য হয় কেন?
এর পেছনে শুধু ঘামের পরিমাণ নয়, ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া, হরমোন, খাবার ও শরীরের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যও ভূমিকা রাখে।
ঘামের দুর্গন্ধের কারণ বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে, ঘাম নিজে সাধারণত গন্ধহীন। ত্বকে স্বাভাবিকভাবে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের কিছু উপাদান ভেঙে ফেললে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। তাই বেশি ঘাম হলেই যে বেশি দুর্গন্ধ হবে, এমন নয়। কারও ঘামের গন্ধ তীব্র হতে পারে, এমনকি তুলনামূলক কম ঘামলেও।
বিশেষ করে বগল ও কুঁচকির মতো জায়গায় ঘামের উপাদান, ত্বকের ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য নিঃসরণের মিশ্রণে তীব্র গন্ধ তৈরি হতে পারে।
১. ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব
ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে। এসব ব্যাকটেরিয়া ঘামের উপাদান ভেঙে গন্ধ তৈরি করে। মানুষের ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার ধরন ও পরিমাণে পার্থক্য থাকায় ঘামের গন্ধও একেকজনের একেক রকম হতে পারে।
২. ঘামগ্রন্থির পার্থক্য
মানুষের শরীরে প্রধানত দুই ধরনের ঘামগ্রন্থি রয়েছে—একক্রাইন ও অ্যাপোক্রাইন। একক্রাইন গ্রন্থি শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, অ্যাপোক্রাইন গ্রন্থি মূলত বগল ও কুঁচকির মতো স্থানে থাকে। এই গ্রন্থি থেকে বের হওয়া তরল ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এলে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে।
৩. হরমোনের পরিবর্তন
বয়ঃসন্ধিকাল, গর্ভাবস্থা ও মেনোপজের মতো সময়ে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ঘাম ও শরীরের গন্ধে পরিবর্তন আসতে পারে। বয়ঃসন্ধিতে অ্যাপোক্রাইন ঘামগ্রন্থি সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে এ সময় শরীরের গন্ধ বেশি লক্ষ করা যায়।
৪. গরম, ব্যায়াম ও মানসিক চাপ
গরম আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম, ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক চাপে ঘাম বাড়তে পারে। ঘাম বেশি হলে ত্বকে আর্দ্রতা বাড়ে এবং ঘামের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শও বেশি হতে পারে। ফলে দুর্গন্ধ আরও তীব্র মনে হতে পারে।
৫. খাবার ও ওষুধের প্রভাব
রসুন, পেঁয়াজ ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার শরীরের গন্ধে প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ঘাম বেড়ে যেতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে খাবার বা ওষুধের প্রভাব একই রকম হয় না।
৬. শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ
কিছু মানুষের ঘামগ্রন্থি অতিরিক্ত সক্রিয় থাকে। এই অবস্থাকে হাইপারহাইড্রোসিস বলা হয়। এতে শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঘাম হতে পারে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা এবং কিডনি বা যকৃতের কিছু রোগের সঙ্গে শরীরের গন্ধের পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে শুধু ঘামের দুর্গন্ধ থেকেই কোনো রোগ নির্ণয় করা যায় না।
নিয়মিত গোসল করা, বগল ও ঘাম জমে এমন স্থান পরিষ্কার রাখা, ঘামে ভেজা পোশাক দ্রুত বদলে ফেলা এবং পরিষ্কার, বাতাস চলাচল করে এমন পোশাক পরা দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া অ্যান্টিপারস্পির্যান্ট ব্যবহার করলে ঘামের পরিমাণ কমতে পারে। অন্যদিকে, ডিওডোর্যান্ট মূলত শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে। দুটি পণ্যের কাজ এক নয়।
সবশেষে মনে রাখা জরুরি, ঘামের দুর্গন্ধ বেশি হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। তাই সবার ক্ষেত্রে একই কারণ দায়ী নয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরও দুর্গন্ধ না কমলে কিংবা হঠাৎ শরীরের গন্ধ বা ঘামের পরিমাণ বদলে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।