স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৬ পি এম

বিছানায় ছারপোকার উপদ্রব? যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন

ছবি : সংগৃহীত

রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছেন, অথচ আপনার বিছানাতেই লুকিয়ে আছে রক্তচোষা পোকা! সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরে চুলকানিযুক্ত দাগ কিংবা বিছানার চাদরে ছোট ছোট রক্তের ছোপ দেখে অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এগুলো হতে পারে ছারপোকার উপস্থিতির লক্ষণ। একবার ঘরে বাসা বাঁধলে ম্যাট্রেস, খাটের ফ্রেম থেকে শুরু করে দেয়ালের ফাঁকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এই পোকা। তাই উপদ্রব বাড়ার আগেই লক্ষণগুলো চিনে সতর্ক হওয়া জরুরি।

ছারপোকা মানুষের রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে। সাধারণত রাতে বেশি সক্রিয় হয় এবং ঘুমন্ত মানুষের শরীরে কামড় দিতে পারে। দিনের বেলায় এরা ম্যাট্রেসের সেলাইয়ের ভাঁজ, খাটের জোড়া, আসবাবের ফাঁক, দেয়ালের ছোট ছিদ্র কিংবা ওয়ালপেপারের নিচে লুকিয়ে থাকে।

## যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন

ছারপোকার কামড়ে ত্বকে ছোট, উঁচু ও চুলকানিযুক্ত দাগ দেখা দিতে পারে। দাগগুলো কখনো সারিবদ্ধভাবে, আবার কখনো একসঙ্গে কয়েকটি করে দেখা যায়। তবে সবার শরীরে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া হয় না। কারও ত্বকে স্পষ্ট দাগ দেখা গেলেও অন্য কারও কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে।

বিছানার চাদর বা বালিশে ছোট রক্তের দাগ, ম্যাট্রেস ও খাটের ফ্রেমে কালচে বা বাদামি বিন্দুর মতো দাগও ছারপোকার উপস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে। এ ছাড়া বিছানার আশপাশে জীবন্ত পোকা, তাদের ফেলে যাওয়া খোলস কিংবা ছোট সাদা ডিম দেখা গেলেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

তবে শুধু ত্বকে কামড়ের দাগ থাকলেই ছারপোকার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায় না। মশা বা অন্য পোকামাকড়ের কামড়েও একই ধরনের সমস্যা হতে পারে। তাই বিছানা ও আশপাশের জায়গা ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।

## কীভাবে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে ছারপোকা?

ভ্রমণের ব্যাগ, পোশাক, ব্যবহৃত আসবাব কিংবা পুরোনো ম্যাট্রেসের মাধ্যমে ছারপোকা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ছোট আকারের কারণে সহজেই বিভিন্ন ফাঁকে লুকিয়ে থাকে। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে দ্রুত বংশবিস্তার করে আশপাশের বিছানা ও আসবাবেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

অনেকের ধারণা, ছারপোকা শুধু অপরিচ্ছন্ন বাড়িতে হয়। বাস্তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঘরেও এদের উপদ্রব দেখা দিতে পারে। তাই ঘরে ছারপোকা পাওয়া মানেই সেখানে পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে, এমন নয়।

## ছারপোকার উপদ্রব কমাতে কী করবেন?

বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও আক্রান্ত পোশাক কাপড়ের উপযোগী উচ্চ তাপমাত্রায় ধুয়ে গরম তাপে শুকানো যেতে পারে। ম্যাট্রেসের সেলাই, খাটের কোণ, আসবাবের ফাঁক ও দেয়ালের সংযোগস্থল নিয়মিত পরীক্ষা করুন। ব্যবহৃত আসবাব বা ম্যাট্রেস ঘরে আনার আগেও ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

তবে ছারপোকার উপদ্রব বেশি হলে শুধু ঘর পরিষ্কার করা বা চাদর ধোয়া যথেষ্ট নাও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পেশাদার কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণকর্মীর সাহায্য নেওয়া ভালো। নিজের উদ্যোগে কীটনাশক ব্যবহার করলে অবশ্যই নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

ছারপোকার কামড়ে সাধারণত চুলকানি ও ত্বকে অস্বস্তি হয়। অতিরিক্ত চুলকানোর ফলে ক্ষত তৈরি হয়ে সংক্রমণও হতে পারে। তীব্র অ্যালার্জি, উল্লেখযোগ্য ফোলাভাব বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিছানায় অস্বাভাবিক দাগ বা ছারপোকার উপস্থিতি চোখে পড়লে অবহেলা করবেন না। শুরুতেই উপদ্রব শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিলে ঘরের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।