স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৯ পি এম

হজম থেকে রক্তে শর্করা, কাঁচকলার যত গুণ

ছবি : সংগৃহীত

কলা বলতেই অনেকের মনে আসে পাকা হলুদ কলার কথা। কিন্তু সবুজ কাঁচকলাও পুষ্টিগুণে কম নয়।

প্রতিদিনের খাবারে পরিচিত এই ফলটি পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি বজায় রাখে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

সহজলভ্য এই খাবারে রয়েছে খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম ও প্রতিরোধী শ্বেতসার, যা শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

**অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে**

কাঁচকলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো প্রতিরোধী শ্বেতসার বা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ। এটি সাধারণ শ্বেতসারের মতো ক্ষুদ্রান্ত্রে পুরোপুরি হজম হয় না। বরং বৃহদন্ত্রে পৌঁছে উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

এ ছাড়া কাঁচকলার খাদ্যআঁশ স্বাভাবিক মলত্যাগে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত খেলে কারও কারও পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়।

**রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে**

কাঁচকলায় থাকা প্রতিরোধী শ্বেতসার হজমের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। ফলে খাবারের পর রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কিছু ক্ষেত্রে কমে। এ কারণে সুষম খাদ্যতালিকায় কাঁচকলা রাখা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

তবে কাঁচকলাতেও শর্করা রয়েছে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিমাণ বুঝে খাওয়া জরুরি। কাঁচকলা খেলেই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমন নয়। ওষুধ, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা চালিয়ে যেতে হবে।

**ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে**

কাঁচকলার খাদ্যআঁশ ও প্রতিরোধী শ্বেতসার পেট ভরা অনুভূতি ধরে রাখে। এতে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যাভ্যাসে কাঁচকলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে শুধু কাঁচকলা খেয়ে ওজন কমানো যায় না। কী পরিমাণ খাবার খাওয়া হচ্ছে, কীভাবে রান্না করা হচ্ছে এবং দৈনিক মোট ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ—এসব বিষয়ও ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।

**রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পটাশিয়ামের ভূমিকা**

কাঁচকলায় থাকা পটাশিয়াম স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখে। পর্যাপ্ত পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

তবে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শে পটাশিয়াম গ্রহণ সীমিত রাখতে বলা হয়েছে, এমন ব্যক্তিদের কাঁচকলা খাওয়ার পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

**কীভাবে খাবেন কাঁচকলা?**

কাঁচকলা সেদ্ধ, ভর্তা বা ঝোল করে খাওয়া যায়। খাবার স্বাস্থ্যকর রাখতে অতিরিক্ত তেল ও লবণ ব্যবহার না করাই ভালো। এর সঙ্গে শাকসবজি, ডাল, মাছ বা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কাঁচকলা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর সংযোজন। তবে সুস্থ থাকতে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় খাবার খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।