স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
হাঁটাচলা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা কিংবা হাঁটু ভাঁজ করার সময় কড়কড় শব্দ ও ব্যথা অনুভব করেন অনেকে। কখনো হাঁটু শক্ত হয়ে থাকে, আবার কখনো বসা থেকে উঠতে গেলেও অস্বস্তি হয়। এসব সমস্যার একটি কারণ হতে পারে হাঁটুর সামনের অংশের অস্থিসন্ধিতে ক্ষয়, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘প্যাটেলোফেমোরাল অস্টিওআর্থ্রাইটিস’ নামে পরিচিত।
এ সমস্যায় হাঁটুর চাকতির মতো হাড়ের (প্যাটেলা) নিচের তরুণাস্থি এবং উরুর হাড়ের যে খাঁজে হাঁটুর চাকতি চলাচল করে, সেই অংশের তরুণাস্থি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে হাঁটু ভাঁজ করা ও সোজা করার সময় ব্যথা হতে পারে।
জার্মানির ফ্রাইবুর্গের অর্থোপেডিক চিকিৎসক ডা. সভেন অস্টারমায়ারের মতে, হাঁটুর চাকতির পেছনের অংশে ক্ষয়জনিত পরিবর্তন এ সমস্যার অন্যতম কারণ। তাঁর পরামর্শ, এ ধরনের সমস্যা হলে শুরুতেই চিকিৎসা নেওয়া উচিত। সম্ভব হলে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ভালো।
হাঁটুর চারপাশের পেশি শক্তিশালী করা এবং জয়েন্টের ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে ব্যায়াম করতে হবে শারীরিক সক্ষমতা ও ব্যথার মাত্রা অনুযায়ী।
১. উরুর সামনের পেশি শক্ত করার ব্যায়াম
মেঝে বা বিছানায় পা সোজা করে বসুন কিংবা শুয়ে পড়ুন। হাঁটুর নিচের অংশ বিছানার দিকে চেপে ধরে উরুর সামনের পেশি শক্ত করুন। পাঁচ সেকেন্ড ধরে রেখে পেশি শিথিল করুন। ব্যথা না বাড়লে কয়েকবার এভাবে করতে পারেন।
২. সোজা পা ওপরে তোলা
চিৎ হয়ে শুয়ে একটি পা হাঁটু না ভাঁজ করে সোজা রাখুন। অন্য পা হাঁটু ভাঁজ করে রাখতে পারেন। এবার সোজা পাটি ধীরে ধীরে কিছুটা ওপরে তুলুন। কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে ধীরে নামিয়ে আনুন। এই ব্যায়াম উরুর পেশি শক্তিশালী করতে সহায়ক।
৩. চেয়ার থেকে ওঠা-বসা
একটি মজবুত চেয়ার ব্যবহার করুন। ধীরে ধীরে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান, তারপর নিয়ন্ত্রণ রেখে আবার বসুন। প্রয়োজনে হাতের সাহায্য নিন। হাঁটুতে ব্যথা বাড়লে বা অস্বস্তি হলে ব্যায়ামটি বন্ধ করুন।
হাঁটুতে কড়কড় শব্দ হলেই যে অস্থিসন্ধিতে ক্ষয় হয়েছে, তা নয়। তবে শব্দের সঙ্গে নিয়মিত ব্যথা, হাঁটু ফুলে যাওয়া, হাঁটু ভাঁজ করতে অসুবিধা কিংবা হাঁটাচলায় সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
হাঁটু হঠাৎ অনেক ফুলে গেলে, লাল ও গরম হয়ে উঠলে অথবা পায়ে ভর দিতে না পারলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ব্যায়ামের সময় ব্যথা বাড়লে জোর করে চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত ব্যায়াম নির্বাচন করাই নিরাপদ।