স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৬ এএম

জিমে যাওয়ার সময় নেই? শরীরচর্চার সহজ সমাধান ‘মাইক্রো-ওয়ার্কআউট’

ছবি : সংগৃহীত

প্রতিদিন এক ঘণ্টা জিমে যাওয়ার সময় বের করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। অফিসের ব্যস্ততা, পরিবারের দায়িত্ব, যাতায়াত আর ঘুম,সবকিছু সামলে অনেকেই ব্যায়ামকে দৈনন্দিন জীবন থেকে বাদ দিয়ে দেন।

তবে শরীরচর্চার জন্য সবসময় দীর্ঘ সময় একসঙ্গে ব্যয় করতে হবে, এমন নয়। দিনের বিভিন্ন সময়ে কয়েক মিনিট করে শরীরকে সক্রিয় রাখাও হতে পারে একটি কার্যকর উপায়।

এ ধরনের ছোট ছোট ব্যায়ামের পর্বকে বলা হয় ‘মাইক্রো-ওয়ার্কআউট’ বা ‘এক্সারসাইজ স্ন্যাকস’। এর অর্থ হলো, নির্দিষ্ট এক সময়ে দীর্ঘ ব্যায়াম না করে দিনের ব্যস্ততার মাঝেই কয়েক মিনিটের শারীরিক কার্যক্রম করা।

দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে ওঠা, কাজের ফাঁকে কয়েকবার স্কোয়াট করা, কয়েক মিনিট দ্রুত হাঁটা কিংবা দুপুরের বিরতিতে অল্প সময়ের জোরালো ব্যায়াম—এসবই মাইক্রো-ওয়ার্কআউটের উদাহরণ। এর সুবিধা হলো, ব্যায়ামের জন্য আলাদা করে এক ঘণ্টা সময় বের করার প্রয়োজন হয় না।

বিশেষ করে যারা দিনের বেশিরভাগ সময় বসে কাজ করেন, তাদের জন্য এমন ছোট ছোট বিরতি শরীরকে দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকার হাত থেকে কিছুটা দূরে রাখতে পারে। একবারে অল্প সময় হলেও দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব কার্যক্রম যোগ করলে মোট শারীরিক সক্রিয়তা বাড়তে পারে।

তবে মাইক্রো-ওয়ার্কআউটকে দীর্ঘ সময়ের নিয়মিত ব্যায়ামের সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়। সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম অথবা ৭৫ মিনিট বেশি তীব্রতার কার্যক্রম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ।

তাই এক ঘণ্টা জিম করার সুযোগ না থাকলেও ব্যায়াম পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দিনের ছোট ছোট সময়কে কাজে লাগিয়ে হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার বা সহজ কিছু ব্যায়াম করা যেতে পারে। নিয়মিত এমন অভ্যাস তৈরি হলে দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রমের পরিমাণ বাড়ানো সহজ হতে পারে।

তবে হঠাৎ করে খুব জোরালো ব্যায়াম শুরু করা উচিত নয়। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘদিন ব্যায়ামের অভ্যাস নেই বা কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তারা নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে শুরু করবেন। ব্যায়ামের সময় বুকব্যথা, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অসুস্থ লাগলে ব্যায়াম বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ব্যস্ত জীবনে স্বাস্থ্যকর থাকার জন্য সবসময় বড় পরিবর্তন দরকার হয় না। কখনো কয়েক মিনিটের ছোট ছোট সক্রিয়তাও হতে পারে নিয়মিত শরীরচর্চার পথে গুরুত্বপূর্ণ শুরু।