স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৪ পি এম

হাসতে হাসতে চোখে পানি আসে কেন? জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

ছবি : সংগৃহীত

কখনো এমন হয়েছে, হাসতে হাসতে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে? এতটাই হাসি পাচ্ছে যে কথা বলা কঠিন হয়ে যাচ্ছে, অথচ চোখের পানি থামানো যাচ্ছে না। অনেকেই মনে করেন, অতিরিক্ত হাসির কারণে হয়তো কান্নার মতো কোনো প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে শরীরের স্বাভাবিক কিছু প্রক্রিয়া।

প্রবল হাসির সময় চোখে পানি আসা সাধারণত স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া। হাসির সময় মুখের পেশি, চোখের চারপাশের পেশি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরনে পরিবর্তন আসে। জোরে হাসলে চোখের চারপাশের পেশি সংকুচিত হয়। এতে চোখের পানি বের হওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে চোখে পানি জমে গড়িয়ে পড়তে পারে।

হাসির সময় চোখের পানি তৈরি হয় কেন?

চোখকে আর্দ্র ও সুরক্ষিত রাখতে অশ্রুগ্রন্থি সব সময় অল্প পরিমাণে পানি তৈরি করে। স্বাভাবিক অবস্থায় এই পানি চোখের ওপর ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে অশ্রুনালির মাধ্যমে নাকের দিকে চলে যায়।

কিন্তু প্রবল হাসির সময় মুখ ও চোখের চারপাশের পেশি বারবার সংকুচিত হয়। এর ফলে চোখের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সাময়িক পরিবর্তন আসতে পারে। চোখের পানি দ্রুত জমে গেলে তা অশ্রুনালি দিয়ে পুরোপুরি নিষ্কাশিত হতে পারে না। তখন পানি চোখের পাতা উপচে গাল বেয়ে পড়তে পারে।

এ ছাড়া জোরে হাসার সময় চোখের পাতা আংশিক বন্ধ হয়ে আসা এবং মুখের পেশির নড়াচড়াও এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে।

হাসি ও কান্নার মধ্যে কি সম্পর্ক আছে?

হাসি ও কান্না দেখতে আলাদা হলেও দুটিই আবেগ প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আনন্দ, দুঃখ, স্বস্তি কিংবা তীব্র আবেগের সময় শরীরের প্রতিক্রিয়া কখনো কখনো একে অপরের সঙ্গে মিলে যেতে পারে।

প্রচণ্ড হাসির সময় চোখে পানি এলেই সেটিকে আবেগের কান্না বলা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে এটি মূলত চোখের পানি তৈরি ও নিষ্কাশনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি শারীরিক প্রতিক্রিয়া।

হাসির পেছনে মস্তিষ্কের একাধিক স্নায়বিক ব্যবস্থা কাজ করে। স্বতঃস্ফূর্ত হাসি আনন্দের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, কথোপকথনের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে হাসার সঙ্গে কথা বলা ও কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থার সম্পর্ক রয়েছে।

অর্থাৎ, প্রবল হাসির সময় চোখে পানি আসা শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। হাসির সময় চোখের চারপাশের পেশির নড়াচড়া এবং চোখের পানি নিষ্কাশনের প্রক্রিয়ায় সাময়িক পরিবর্তনের কারণে এমনটা ঘটতে পারে।