স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করে সেখানকার অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়ার পর তিনি স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করে সেবার মান উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগের কথা জানান।
একই সঙ্গে হাসপাতালের অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী ময়লার গুদামে পাওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনা ও লুটপাট হয়েছে। এসব দূর করে স্বাস্থ্য খাতে পুনরায় গতি ফেরানোর লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীরা যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবা পান, সে জন্য স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাপনা উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা এ পরিদর্শনে গুরুত্ব পেয়েছে।
সম্প্রতি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী নগরীর শম্ভুগঞ্জ এলাকার একটি ময়লার গুদামে পাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এসব সামগ্রীর প্যাকেটে ২০২৮ ও ২০৩১ সাল পর্যন্ত মেয়াদ উল্লেখ রয়েছে। ময়লা সংগ্রহের কাজে যুক্ত শ্রমিকদের দাবি, প্রতিদিন হাসপাতালের বর্জ্যের সঙ্গে নতুন সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন আসে।
এসব সামগ্রীর কিছু হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হয় এবং বাকিগুলো পাইকারি দরে বিক্রি করা হয়।
তবে গুদামে পাওয়া সামগ্রীগুলো হাসপাতালের কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এগুলো হাসপাতালের না বাইরের।’ অন্যদিকে, হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার বলেন, অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ চিকিৎসাসামগ্রী হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৫ থেকে ৪০ ভ্যানগাড়ি ময়লা সরানো হয়। এসব বর্জ্যের মধ্য থেকে প্রতি সপ্তাহে কয়েক বস্তা অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। কীভাবে এসব সামগ্রী হাসপাতালের বর্জ্যের সঙ্গে বাইরে যাচ্ছে, সেগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং বিক্রির অভিযোগের সত্যতা কতটুকু, এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার বাইরে চিকিৎসাসামগ্রী চলে যাওয়ার ঘটনায় কর্তৃপক্ষের দায় ও তদারকির বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে, হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে পুরোনো কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টারে রূপান্তর করা হবে। এসব কেন্দ্রে চিকিৎসক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, দেশে ক্যানসার চিকিৎসার জন্য রেডিওথেরাপি মেশিন সরবরাহ, পাঁচটি রোবটিক সার্জারি মেশিন আনা এবং আড়াই হাজার নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মিডওয়াইফ নিয়োগের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়ানো এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিদর্শনকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী বর্জ্যের সঙ্গে বাইরে যাওয়া এবং সেগুলো বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফল পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য অপসারণ ও তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।