স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

ডেস্ক প্রতিবেদক
  ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৫ পি এম

বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে বিএমইউতে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: বিশ্ব স্ট্রোক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজি বিভাগের উদ্যোগে এ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

স্ট্রোক সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী। শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. বাহাদুর আলী মিয়া, অধ্যাপক ডা. কনোজ কুমার বর্মন, অধ্যাপক ডা. শেখ মাহবুব আলম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মাসুদ রানা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আনিস আহমেদ এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. কাজী জান্নাত আরাসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক ও চিকিৎসক।

বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আয়োজকেরা স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ রোগীর জীবন রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অক্ষমতার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা মস্তিষ্কের রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে সৃষ্ট একটি গুরুতর চিকিৎসাজনিত অবস্থা। হঠাৎ মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশের হাত বা পা দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া কিংবা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি ও ভারসাম্যে সমস্যা দেখা দেওয়া স্ট্রোকের উল্লেখযোগ্য লক্ষণ। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া প্রয়োজন।

এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ধূমপান, স্থূলতা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা, জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে স্ট্রোকজনিত মৃত্যু এবং দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।