স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) সেবায় টেকসই অর্থায়ন এবং উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয় নিয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বিএমইউর পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ।
বৈঠকে বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা বলেন, অসংক্রামক রোগ বর্তমানে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ এবং নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
আলোচনায় বলা হয়, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ নিয়মিত সরবরাহ করা না গেলে রোগীদের নিজ খরচে ওষুধ কিনতে হয়। দীর্ঘদিন এ ব্যয় বহন করা নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা অনিয়মিত হওয়া কিংবা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে অসংক্রামক রোগের সেবা সম্প্রসারণ এবং উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সেবাকেন্দ্রগুলোর চাহিদা অনুযায়ী ওষুধের ক্রয়, মজুত, বিতরণ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ওষুধের প্রাপ্যতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
বৈঠকের আলোচনায় পরিবর্তিত অপারেশনাল প্ল্যান ব্যবস্থায় অসংক্রামক রোগের সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের জন্য ধারাবাহিক ও সুরক্ষিত অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্নারগুলোতে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের চাহিদা নিরূপণ, চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সংগ্রহ ও বিতরণ, মজুত ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে পরিবর্তিত অপারেশনাল প্ল্যান ব্যবস্থায় এনসিডি সেবার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন কীভাবে অব্যাহত ও সুরক্ষিত রাখা যায়, তা পর্যালোচনা করা হয়।
আলোচনার ভিত্তিতে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের প্রাপ্যতা এবং অসংক্রামক রোগের সেবায় অর্থায়নসংক্রান্ত বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ওষুধের চাহিদা নিরূপণ থেকে শুরু করে ক্রয়, মজুত, বিতরণ ও সরবরাহ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে করণীয় নির্ধারণ, সেবাকেন্দ্রগুলোতে ওষুধের প্রাপ্যতা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অর্থায়নের টেকসই উৎস চিহ্নিত করার বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়।
এ ছাড়া সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অংশীজনের ভূমিকা এবং সমন্বয়ের ক্ষেত্র নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকের মূল আলোচনা ও সুপারিশগুলো সংকলন করে একটি সংক্ষিপ্ত পলিসি ব্রিফ প্রণয়ন এবং তা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও অংশীজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং ধারাবাহিক অর্থায়নের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করা সম্ভব হবে।