স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

গ্রামীণ স্বাস্থ্য ডেস্ক, স্থানীয় প্রতিনিধি
  ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৬ পি এম

চার মাসের বেতন-বোনাস বকেয়া, অনশনে চসিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা

ছবি: সংগৃহীত

 চট্টগ্রাম: চার মাসের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধের দাবিতে অনশনে বসেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

কর্মীদের আন্দোলনের কারণে চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালিত কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, বকেয়া বেতন পরিশোধের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন। এ সময় বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

আন্দোলনকারী হামিদুর রহমান বলেন, গত চার মাস ধরে তারা বেতন পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে একাধিকবার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও আশ্বাস ছাড়া কিছু পাওয়া যায়নি। আশ্বাস নয়, তারা বেতন পরিশোধের কার্যকর উদ্যোগ চান। বেতন না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি থেকে সরে আসবেন না বলেও জানান তিনি।

হামিদুর রহমানের দাবি, বেতন বন্ধ থাকায় ৩৬২ জন কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। অর্থাভাবে ইতোমধ্যে দুই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। এ ছাড়া কয়েকজন অসুস্থ কর্মী চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পারছেন না বলে জানান তারা।

এদিকে, চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে পরিচালিত ৩৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়। কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় এসব সেবা নিতে আসা রোগীরা বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এ পরিস্থিতি বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করেছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাজেদুর রহমান আন্দোলনকারীদের অনশন ভাঙার আহ্বান জানিয়ে আশ্বাস দিলেও তাতে সাড়া দেননি কর্মীরা। বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা সিভিল সার্জনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। স্বাস্থ্যকর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে চসিকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিনের বেতন বকেয়া থাকার কারণে একদিকে স্বাস্থ্যকর্মীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন, অন্যদিকে তাদের কর্মসূচির প্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা। দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিক সেবা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।