স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৯ পি এম

পেট সুস্থ রাখতে যে সুপারফুড খাবেন প্রতিদিন

ছবি : সংগৃহীত

পেট ভালো রাখতে শুধু পেট ভরে খেলেই হয় না, খাবারে কী আছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। হজম ঠিক রাখতে ও অন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক। সহজ কথায়, প্রোবায়োটিক হলো পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া, আর প্রিবায়োটিক হলো সেই ব্যাকটেরিয়ার খাবার। টক দই ও কিছু গাঁজানো খাবারে প্রোবায়োটিক পাওয়া যায়। অন্যদিকে, কলা, ওটস, ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ ও রসুনে থাকে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাবার হিসেবে কাজ করা উপাদান। প্রতিদিনের খাবারে এগুলো রাখলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দামি খাবারের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের পরিচিত কিছু খাবারই হতে পারে ভালো বিকল্প। এমন চারটি খাবার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১. টক দই ও ফারমেন্টেড খাবার

টক দইয়ের পাশাপাশি কিছু ফারমেন্টেড বা গাঁজানো খাবারও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এ ধরনের খাবারের উদাহরণ হলো টক দই, কেফির, কিমচি, শিদল,গাঁজন করা আচার ও আমাদের পরিচিত পান্তা ভাত। গাঁজন প্রক্রিয়ায় খাবারের মধ্যে বিভিন্ন অণুজীবের পরিবর্তন ঘটে। তবে সব গাঁজানো খাবারেই উপকারী জীবিত ব্যাকটেরিয়া থাকে না। পান্তা ভাতেও সব সময় প্রোবায়োটিকের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা উপস্থিতি নিশ্চিত নয়। তাই একে নিশ্চিত প্রোবায়োটিকের উৎস হিসেবে ধরা ঠিক নয়। পান্তা তৈরির সময় পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করুন এবং রান্না করা ভাত দ্রুত ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখুন। দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রাখা ভাত খাওয়া উচিত নয়। সম্ভব হলে চিনি ছাড়া ও জীবিত কালচারযুক্ত টক দই বেছে নিন।

২. ওটস

ওটসে রয়েছে দ্রবণীয় আঁশ, বিশেষ করে বিটা-গ্লুকান। এই আঁশ মলত্যাগ নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। সকালের নাশতায় দুধ বা টক দইয়ের সঙ্গে ওটস খাওয়া যায়। চাইলে এর সঙ্গে অল্প ফলও যোগ করতে পারেন।

৩. কলা

কলা সহজলভ্য ও পুষ্টিকর একটি ফল। এতে আঁশ, পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি৬ রয়েছে। বিশেষ করে কিছুটা কম পাকা কলায় থাকা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাবার হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে ডায়াবেটিস থাকলে একবারে কতটুকু কলা খাচ্ছেন, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

৪. ডাল ও ছোলা

ডাল ও ছোলায় রয়েছে আঁশ, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, আয়রন ও ফোলেট। আঁশ মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে সহায়তা করতে পারে। প্রতিদিনের খাবারে ডাল রাখা যায়। ছোলা সেদ্ধ করে নাশতা হিসেবেও খেতে পারেন। তবে ডাল বা ছোলা খেলে গ্যাস হলে অল্প পরিমাণে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়ানো ভালো।

পেট সুস্থ রাখতে আরও যা করবেন

 প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা, শাকসবজি ও ফল খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যতালিকায় আঁশ ধীরে ধীরে বাড়ান, যাতে হঠাৎ গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা না হয়।

দীর্ঘদিন পেটব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা অন্য কোনো হজমের সমস্যা থাকলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।