স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ পি এম

শিশুকে সবজি খাওয়াতে পারছেন না? ৬ কৌশলেই বদলে যেতে পারে অভ্যাস

ছবি : সংগৃহীত

‘সবজি খাব না’ শিশুর মুখে এমন কথা শুনে অনেক বাবা-মায়েরই মাথায় হাত পড়ে যায়। প্লেটে সবজি দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, শুধু ভাত-রুটি বা পছন্দের খাবার খেতে চাওয়া কিংবা নতুন খাবার দেখলেই অনীহা শিশুদের মধ্যে এসব আচরণ বেশ পরিচিত।

তবে প্রতিদিনের খাবারের অভ্যাসে কিছু ছোট পরিবর্তন এনে ধীরে ধীরে শিশুকে সবজির প্রতি আগ্রহী করে তোলা সম্ভব।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে BBC Future শিশুদের সবজি খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে বিভিন্ন গবেষণার তথ্য তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়েছে, শিশুকে জোর করে খাওয়ানোর বদলে খাবারের সঙ্গে তার পরিচয়, পরিবেশ ও অভিজ্ঞতা পরিবর্তন করাই বেশি কার্যকর হতে পারে।

ছোটবেলা থেকেই বারবার দিন সবজি

শিশুকে যত ছোট বয়স থেকে বিভিন্ন ধরনের সবজির সঙ্গে পরিচয় করানো যায়, ততই ভালো। কোনো সবজি প্রথমবার খেতে না চাইলে সেটি একেবারে বাদ না দিয়ে অন্যদিন আবার দেওয়া যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন কোনো খাবার গ্রহণ করতে শিশুর একাধিকবার সেই খাবারের সংস্পর্শে আসার প্রয়োজন হতে পারে। তবে কতবার চেষ্টা প্রয়োজন, তা শিশুভেদে আলাদা।

বিশেষ করে প্রি-স্কুল বয়সে নতুন খাবারের প্রতি অনীহা বা ‘ফুড নিওফোবিয়া’ দেখা দিতে পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই খাবারে বৈচিত্র্য রাখার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।

ক্ষুধার সময় আগে দিন সবজি

​​​​​​শিশু যখন বেশি ক্ষুধার্ত থাকে, তখন খাবারের শুরুতেই সবজি পরিবেশন করা যেতে পারে। কারণ পছন্দের খাবার আগে খেয়ে ফেললে অনেক শিশু পরে থাকা সবজি আর খেতে চায় না।

তাই ভাত, নুডলস বা অন্য পছন্দের খাবারের পাশাপাশি বা আগে সবজি দিলে সেটি খাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

প্লেটে বাড়ান সবজির পরিমাণ

শিশুর খাবারে স্বাস্থ্যকর খাবারের অনুপাত বাড়ানোও কাজে আসতে পারে। যেমন প্লেটে অতিরিক্ত উচ্চ-ক্যালরির খাবারের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে সবজি বাড়ানো।

গাজর, লাউ, ঝিঙে, শিম বা অন্যান্য সবজি রান্নার পাশাপাশি সস, খিচুড়ি কিংবা ডিমের মতো খাবারের সঙ্গে কুচি বা গ্রেট করে মিশিয়েও দেওয়া যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্লেটে ফল ও সবজির পরিমাণ বাড়ালে শিশুর এগুলো খাওয়ার পরিমাণও বাড়তে পারে।

খাবারকে করুন চোখে পড়ার মতো আকর্ষণীয়

শিশুর কাছে খাবারের চেহারাও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে পরিবেশন করার বদলে সবজি বিভিন্ন আকৃতি ও রঙে সাজিয়ে দেওয়া যেতে পারে। ফুল, প্রজাপতি বা অন্যান্য মজার আকৃতিতে কাটা সবজি শিশুর কাছে বেশি আকর্ষণীয় মনে হতে পারে।

একইভাবে প্লেটে বিভিন্ন খাবার আলাদা অংশে সাজিয়ে দিলে শিশুর খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে। স্বাস্থ্যকর সবজি ও ফল এমন জায়গায় রাখাও ভালো, যেখানে শিশু সহজেই সেগুলো দেখতে ও নিতে পারে।

বাবা-মা যা খান, শিশুও তা শিখতে পারে

শিশুর খাবারের অভ্যাস তৈরিতে পরিবারের সদস্যদের আচরণ গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মা নিজেরা নিয়মিত সবজি ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে শিশুরাও সেই খাবার খাওয়ার প্রতি আগ্রহী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

তাই শিশুকে শুধু ‘সবজি খাও’ বলার চেয়ে পরিবারের সবাই মিলে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা বেশি কার্যকর হতে পারে।

সম্ভব হলে সপ্তাহে কয়েকবার পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খাবার খাওয়ার পরিবেশ তৈরি করা যেতে পারে।

জোর করে নয়, খেলতে খেলতেই খাবারের সঙ্গে পরিচয়

শিশু কোনো সবজি খেতে না চাইলে তাকে জোর করা সবসময় ভালো ফল নাও দিতে পারে। বরং শিশুকে সবজি ছুঁতে, দেখতে, গন্ধ শুঁকতে কিংবা খাবার তৈরির কাজে বয়স অনুযায়ী অংশ নিতে দেওয়া যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের সঙ্গে চাপমুক্তভাবে খেলাধুলা বা ইন্দ্রিয়নির্ভর অভিজ্ঞতা শিশুর অপরিচিত খাবারের ভয় কমাতে সাহায্য করতে পারে। পরে সেই খাবার চেখে দেখার আগ্রহও তৈরি হতে পারে।

একদিনে নয়, ধীরে ধীরে বদলাবে অভ্যাস

শিশুর খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে গিয়ে একদিনেই ফল পাওয়ার আশা না করাই ভালো। কোনো সবজি প্রথমবার প্রত্যাখ্যান করলেই সেটি শিশুর ‘অপছন্দের খাবার’ ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ধৈর্য ধরে বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন সময়ে এবং চাপমুক্ত পরিবেশে খাবারটি দেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের গবেষণাভিত্তিক পরামর্শের মূল কথা হলো—শিশুকে সবজি খাওয়ানোর জন্য চাপ নয়, বরং নিয়মিত পরিচয়, ভালো উদাহরণ এবং খাবারকে আনন্দদায়ক করে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।