স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ পি এম

সারাদিন হাতে মোবাইল? নীরবে শরীরে বাড়ছে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি

ছবি : সংগৃহীত

স্মার্টফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। যোগাযোগ, পড়াশোনা, কাজ কিংবা বিনোদন সবকিছুতেই মোবাইলের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় মোবাইলের স্ক্রিনে কাটানো শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা অনেকেই গুরুত্ব দিয়ে ভাবেন না।
বিশেষ করে একটানা দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, ঘাড় নিচু করে মোবাইল ব্যবহার করা এবং রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত ফোন হাতে রাখার অভ্যাস শরীরে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

চোখে বাড়তে পারে চাপ

দীর্ঘ সময় মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখে ক্লান্তি, শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, পানি পড়া কিংবা সাময়িক ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা হতে পারে। একটানা স্ক্রিন দেখার সময় চোখের পলক ফেলার হারও কমে যেতে পারে, ফলে চোখ শুষ্ক লাগতে পারে।

ঘাড়-কাঁধে ব্যথার অন্যতম কারণ হতে পারে

মোবাইল ব্যবহারের সময় মাথা দীর্ঘক্ষণ নিচু করে রাখলে ঘাড় ও কাঁধের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। নিয়মিত এমন ভঙ্গিতে ফোন ব্যবহারের কারণে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, কাঁধে ব্যথা এবং ওপরের পিঠে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
রাতের ঘুমেও পড়তে পারে প্রভাব
অনেকের ঘুমানোর ঠিক আগ পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস রয়েছে। রাতে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন দেখলে ঘুমাতে যাওয়ার সময় পিছিয়ে যেতে পারে এবং ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। ফলে পরদিন ঘুমঘুম ভাব, ক্লান্তি ও কাজে মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বাড়ছে বসে থাকার প্রবণতা

মোবাইলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানোর ফলে হাঁটা, খেলাধুলা বা ব্যায়ামের মতো শারীরিক কর্মকাণ্ডের সময় কমে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার অভ্যাস ওজন বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মাথাব্যথা ও শরীরের ক্লান্তি

দীর্ঘ সময় স্ক্রিন দেখা, চোখের ওপর চাপ এবং ঘাড়ের পেশিতে টান—সব মিলিয়ে কারও কারও মাথাব্যথা বা শরীরের অস্বস্তি বাড়তে পারে। পর্যাপ্ত বিরতি না নিয়ে মোবাইল ব্যবহারে এই সমস্যা আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।

মানসিক চাপও বাড়তে পারে

অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বা সারাক্ষণ ফোনের নোটিফিকেশন দেখার অভ্যাস কিছু মানুষের মধ্যে অস্থিরতা, উদ্বেগ, মনোযোগ কমে যাওয়া কিংবা মন খারাপের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এসব সমস্যার পেছনে ব্যক্তির ঘুম, কাজের চাপ ও সামগ্রিক জীবনযাপনসহ একাধিক কারণ থাকতে পারে।

মোবাইল ব্যবহারে থাকুন একটু সচেতন

মোবাইল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং ব্যবহারের ধরন পরিবর্তন করাই গুরুত্বপূর্ণ। একটানা স্ক্রিন না দেখে নিয়মিত বিরতি নেওয়া, চোখের আরামের জন্য ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করা, ফোন চোখের খুব কাছে না রাখা এবং ঘাড় সোজা রেখে ব্যবহার করার অভ্যাস করা যেতে পারে।

প্রতিদিন কিছুটা সময় হাঁটা বা ব্যায়ামের জন্য রাখা এবং ঘুমানোর আগে অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার কমানোও জরুরি।

মনে রাখতে হবে, মোবাইল নিজে সমস্যা নয় অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারই সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই প্রয়োজনের কাজে প্রযুক্তি ব্যবহার করুন, কিন্তু শরীর ও ঘুমের সময়টুকু যেন মোবাইলের দখলে না চলে যায়।