স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি পানিতে দ্রবণীয় বি-ভিটামিন। এটি খাবারের কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও প্রোটিনকে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তিতে রূপান্তর করতে এবং স্বাভাবিক ত্বক, চুল ও স্নায়ুর কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে সুস্থ মানুষের মধ্যে বায়োটিনের ঘাটতি তুলনামূলকভাবে বিরল।
বায়োটিনের ঘাটতি হলে সবচেয়ে বেশি দেখা দিতে পারে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা চুল পড়া, ত্বকে শুষ্কতা বা র্যাশ এবং নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা। এর পাশাপাশি ক্লান্তি, দুর্বলতা, অবসাদ, হাত-পায়ে ঝিনঝিন বা অবশ অনুভূতি এবং কখনো কখনো পেশিতে ব্যথার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। গুরুতর ঘাটতিতে স্নায়বিক সমস্যাও হতে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রে বায়োটিনের ঘাটতি হলে ত্বকে র্যাশ, চুল পড়া, দুর্বলতা এবং বিকাশে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব উপসর্গ শুধু বায়োটিনের ঘাটতির কারণেই হয় না। আয়রন, জিংক, ভিটামিন ডি বা অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতি এবং বিভিন্ন রোগেও একই ধরনের সমস্যা হতে পারে। তাই শুধু চুল পড়া দেখেই বায়োটিনের ঘাটতি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
কোন কোন খাবারে বায়োটিন আছে?
প্রতিদিনের খাবার থেকেই সাধারণত প্রয়োজনীয় বায়োটিন পাওয়া সম্ভব। ডিমের কুসুম, কলিজা, মাছ, মাংস, দুধ ও দুধজাত খাবার, বাদাম ও বীজ, ডাল, মিষ্টি আলু, পালং শাক, ব্রকলি এবং কিছু শস্যজাত খাবারে বায়োটিন পাওয়া যায়।
বিশেষ করে ডিমের কুসুম বায়োটিনের ভালো উৎস। তবে কাঁচা ডিমের সাদা অংশ নিয়মিত ও অতিরিক্ত খেলে এতে থাকা অ্যাভিডিন নামের প্রোটিন বায়োটিনের শোষণে বাধা দিতে পারে। রান্না করলে এই প্রভাব অনেকটাই কমে যায়। তাই ডিম ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াই নিরাপদ।
সাপ্লিমেন্ট কি সবার প্রয়োজন?
বায়োটিনের ঘাটতি না থাকলে শুধু চুল বা নখ ভালো রাখার জন্য উচ্চমাত্রার বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া সাধারণত প্রয়োজনীয় নয়। অতিরিক্ত বায়োটিন কিছু গুরুত্বপূর্ণ রক্ত পরীক্ষার ফলকে ভুলভাবে পরিবর্তন করতে পারে, বিশেষ করে কিছু হরমোন ও হৃদ্যন্ত্র-সংক্রান্ত পরীক্ষায়। তাই সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সুষম খাবার খেলে অধিকাংশ মানুষের শরীরে বায়োটিনের ঘাটতি হয় না। তবে দীর্ঘদিন অপুষ্টি, কিছু নির্দিষ্ট রোগ বা ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। চুল পড়া, ত্বকের সমস্যা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দীর্ঘদিন থাকলে নিজে থেকে বায়োটিন না খেয়ে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।