স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
চিরুনিতে, বালিশে কিংবা গোসলের সময় চুল পড়তে দেখে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। প্রতিদিন কিছু চুল পড়া স্বাভাবিক হলেও অতিরিক্ত চুল পড়া কখনো কখনো খাবারের ঘাটতি, মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন, অসুস্থতা কিংবা চুলের ভুল যত্নের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয় চুল ভাঙা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
চুল পড়া কমাতে প্রতিদিন কী করবেন?
১. পুষ্টিকর খাবার খান
চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। খাবারের তালিকায় ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, দুধ বা দই, শাকসবজি, ফল ও বাদাম রাখতে পারেন।
তবে প্রয়োজন ছাড়া নিজে থেকে আয়রন, বায়োটিন বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়।
২. চুল শক্ত করে বাঁধবেন না
প্রতিদিন খুব শক্ত করে পনিটেল, খোঁপা বা বেণি বাঁধলে চুলের গোড়ায় টান পড়ে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস থাকলে traction alopecia বা টানজনিত চুল পড়ার সমস্যা হতে পারে। তাই চুল খুব শক্ত করে বাঁধা এড়িয়ে চলুন।
৩. ভেজা চুলে অতিরিক্ত টান দেবেন না
ভেজা চুল তুলনামূলকভাবে বেশি ভঙ্গুর থাকে। গোসলের পর জোরে ঘষে শুকানো বা শক্ত করে আঁচড়ানোর বদলে আলতোভাবে পানি শুষে নিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে ধীরে ধীরে জট ছাড়াতে হবে।
৪. অতিরিক্ত তাপ ও রাসায়নিক ব্যবহার কমান
হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লিং আয়রনের অতিরিক্ত ব্যবহার চুলের ক্ষতি ও ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়াতে পারে। ঘন ঘন চুলে ব্লিচ, স্ট্রেইটেনিং বা অন্যান্য রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট করাও কমানো ভালো।
৫. মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন
মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল, ঘাম ও ময়লা জমতে থাকলে অস্বস্তি ও খুশকির সমস্যা হতে পারে। চুল ও স্ক্যাল্পের ধরন অনুযায়ী নিয়মিত শ্যাম্পু করুন। শ্যাম্পু করার সময় নখ দিয়ে জোরে ঘষার বদলে আঙুলের ডগা দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করা ভালো।
৬. পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কিছু মানুষের অতিরিক্ত চুল পড়ার কারণ হতে পারে। নিয়মিত ঘুম, শারীরিক পরিশ্রম, হাঁটা ও নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
৭. ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এড়িয়ে চলুন
সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুমসহ স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
হঠাৎ করে প্রচুর চুল পড়া শুরু হলে, মাথায় গোলাকার ফাঁকা জায়গা তৈরি হলে, চুলের ঘনত্ব দ্রুত কমে গেলে বা মাথার ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব, ব্যথা কিংবা ক্ষত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কারণ অতিরিক্ত চুল পড়ার পেছনে থাইরয়েডের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা, হরমোনের পরিবর্তন, কিছু ওষুধ, বংশগত কারণসহ বিভিন্ন বিষয় থাকতে পারে। কারণ নির্ণয় না করে শুধু তেল, শ্যাম্পু বা সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করলে সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে।
চুলের যত্নে মূল কথা
চুল পড়া সম্পূর্ণ বন্ধ করার কোনো একক ঘরোয়া উপায় নেই। তবে পুষ্টিকর খাবার, কোমলভাবে চুলের যত্ন, অতিরিক্ত তাপ ও রাসায়নিক ব্যবহার কমানো, চুল শক্ত করে না বাঁধা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।