স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ঘুমানোর সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা মুখ ও মাথার সংস্পর্শে থাকে বালিশের কভার। এ কারণে শরীরের ঘাম, ত্বকের তেল, মৃত কোষ, ধুলাবালি এবং চুলে ব্যবহৃত তেল বা প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ ধীরে ধীরে কভারে জমতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এসব ময়লা ত্বক ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষ করে যাদের ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ, তাদের জন্য অপরিষ্কার বালিশের কভার অস্বস্তির কারণ হতে পারে। কভারে জমে থাকা তেল, ঘাম ও ময়লার সঙ্গে ত্বকের বারবার সংস্পর্শ হলে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস বা ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, বালিশের কভারই ব্রণের একমাত্র কারণ নয়। হরমোনের পরিবর্তন, অতিরিক্ত তেল উৎপাদন, ত্বকের ধরনসহ আরও অনেক কারণ ব্রণের জন্য দায়ী হতে পারে।
অ্যালার্জির সমস্যা বাড়তে পারে:
বালিশের কভারে দীর্ঘদিন ধরে ধুলাবালি ও অ্যালার্জেন জমে থাকলে অ্যালার্জিপ্রবণ ব্যক্তিদের সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ধুলা বা ডাস্ট মাইটে অ্যালার্জি থাকলে হাঁচি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা চোখ চুলকানোর মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে বা বেড়ে যেতে পারে।
চুল ও মাথার ত্বকের তেলও জমে
মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল ও ঘাম হলে বালিশের কভার দ্রুত নোংরা হয়ে যায়। একইভাবে চুলে তেল, সিরাম, জেল বা অন্যান্য প্রসাধনী ব্যবহার করলেও সেগুলোর কিছু অংশ কভারে লেগে থাকতে পারে। দীর্ঘদিন একই কভার ব্যবহার করলে ঘাম ও তেল জমে দুর্গন্ধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ঘুমের সময় অস্বস্তিও বাড়তে পারে।
কতদিন পর পর বালিশের কভার ধোয়া উচিত?
বালিশের কভার নিয়মিত পরিষ্কার রাখা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। সাধারণভাবে সপ্তাহে অন্তত একবার বালিশের কভার ধোয়া ভালো। তবে যাদের অতিরিক্ত ঘাম হয়, ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ কিংবা ধুলাবালিতে অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ঘন ঘন কভার পরিবর্তন ও ধুয়ে নিতে পারেন।
শুধু কভার পরিষ্কার রাখলেই হবে না, বালিশও নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ধুয়ে বা পরিবর্তন করা জরুরি। কভার ধোয়ার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নিয়ে ব্যবহার করা উচিত।
ত্বক ভালো রাখতে শুধু দামি প্রসাধনী ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত বালিশের কভার পরিষ্কার রাখা ত্বক ও ঘুমের পরিবেশ দুটিই পরিচ্ছন্ন রাখতে সহায়ক হতে পারে।