স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

ডেস্ক প্রতিবেদক
  ২২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ পি এম

পুষ্টিঘাটতি কমাতে স্বল্পমূল্যের ছোট প্যাকেটের ভিটামিনসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল চাইলেন বিশেষজ্ঞরা

ছবি: সংগৃহীত

স্বল্প আয়ের মানুষের ভিটামিন ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণে ন্যায্যমূল্যে ছোট পরিমাপের ভিটামিনসমৃদ্ধ প্যাকেটজাত ভোজ্যতেল বাজারে সহজলভ্য করার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকারকর্মী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, খোলা ভোজ্যতেল ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ডি’ সমৃদ্ধ ফর্টিফায়েড তেলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলনকক্ষে ‘স্বল্প আয়ের ভোক্তার ভিটামিন ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে স্বল্পমূল্যের ছোট পরিমাপের প্যাকেজিং: জনমত সৃষ্টি সংক্রান্ত আলোচনা সভা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব দাবি জানানো হয়। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। সভায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও পুষ্টিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাবেক সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জমান বলেন, খোলা ভোজ্যতেলের ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তাই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে ছোট পরিমাপের প্যাকেটজাত ফর্টিফায়েড ভোজ্যতেল উৎপাদন ও বাজারজাত নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সভায় উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, দেশে এখনো শিশু, নারী ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ডি’ ঘাটতি উদ্বেগজনক। ২০১৩ সালে ভিটামিন ‘এ’ ফর্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ দরিদ্র মানুষ খোলা তেল ব্যবহারের কারণে এর সুফল পাচ্ছেন না। খোলা তেলে আলো ও বাতাসের সংস্পর্শে ভিটামিন দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, ফলে পুষ্টি নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগও কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না।

বক্তারা জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় ৫০ থেকে ৫০০ মিলিলিটার ধারণক্ষমতার ছোট পাউচ, স্যাশে ও মিনি প্যাক চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ কম দামে নিরাপদ ও ভিটামিনসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল কিনতে পারবেন এবং তেলের পুষ্টিগুণও দীর্ঘ সময় বজায় থাকবে।

আলোচনায় আরও বলা হয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শতভাগ ফুডগ্রেড প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এ পরিস্থিতিতে কর রেয়াত, শুল্ক কমানো, লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি এবং ছোট পরিমাপের অস্বচ্ছ (আলো-প্রতিরোধী) ফুডগ্রেড প্যাকেজিং চালুর মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল সহজলভ্য করার আহ্বান জানান বক্তারা।

সভা থেকে প্যাকেজিং শিল্প, ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা, নীতিনির্ধারক, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল সবার নাগালে পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।