স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান নতুন প্রজন্মের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম ধারণ করে দেশের মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তরুণ চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ‘শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্বের জন্য সম্মাননা-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দেন এবং তাদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে কঠোর মেডিকেল শিক্ষাজীবনের মধ্যেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করায় শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, সংস্কৃতিই মানব সভ্যতার ভিত্তি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অধ্যয়নের সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা দেশের অন্যতম মেধাবী। তবে কেবল মেধা নয়, মানবিক মনোভাব নিয়েই একজন চিকিৎসক অসুস্থ মানুষের সেবার মাধ্যমে জীবনের প্রকৃত সার্থকতা অর্জন করতে পারেন।
ডা. জুবাইদা রহমান আশা প্রকাশ করেন, দেশের মেডিকেল শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর দেশে ফিরে এসে জনগণের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবেন এবং যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবা প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ০.৮৩। একজন চিকিৎসককে গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। গ্রামাঞ্চলে এ সংকট আরও প্রকট।
তিনি আরও বলেন, দেশের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক শহরাঞ্চলে কর্মরত থাকলেও প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডের তুলনায় দেশে নার্সের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
সরকারি চিকিৎসকদের স্বল্পতার কারণে চিকিৎসা ব্যয় এখনও অনেক পরিবারের জন্য দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হয়ে রয়েছে উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, শিক্ষাজীবন থেকেই দেশসেবার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে এলে ভবিষ্যতে এ পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।
তিনি বলেন, এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে চিকিৎসার অভাবে কোনো গ্রামবাসী প্রাণ হারাবে না এবং কোনো অন্তঃসত্ত্বা মা বা নবজাতক প্রতিরোধযোগ্য কারণে মৃত্যুবরণ করবে না।
সবশেষে তিনি বলেন, “সবার স্বাস্থ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেম নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”