স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

ডেস্ক প্রতিবেদক
  ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৮ পি এম

মুখগহ্বরের ক্যান্সার প্রতিরোধে মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসার ওপর গুরুত্বারোপ

ছবি: সংগৃহীত

মুখগহ্বরের ক্যান্সার দ্রুত শনাক্তকরণ, আধুনিক শল্যচিকিৎসা, চিকিৎসাগত উদ্ভাবন এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ)-তে একটি ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার বিএমইউর এ ব্লক অডিটোরিয়ামে “Combating Oral Cancer: Perspectives, Surgical Advances and Therapeutic Innovations” শীর্ষক এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

উপাচার্য বলেন, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সেমিনার আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে মুখগহ্বরের ক্যান্সারের চিকিৎসা আরও উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি ২০০৪ সালে পাকিস্তানের আগা খান বিশ্ববিদ্যালয় সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও ক্যান্সার চিকিৎসায় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। তিনি মুখগহ্বরের ক্যান্সারকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)ও মুখগহ্বরের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।

সেমিনারের সম্মানিত অতিথি ছিলেন পাকিস্তানের আগা খান বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আহমেদ নাদিম আব্বাসি। তিনি বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পরীক্ষাপদ্ধতি ও ই-লার্নিং কার্যক্রমের অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন আধুনিক রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি ও ইমিউনোথেরাপিভিত্তিক চিকিৎসার অগ্রগতি তুলে ধরেন। ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেশিয়াল সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মাহমুদা আক্তার বাংলাদেশে মুখগহ্বরের ক্যান্সারের ঝুঁকি, তামাক ও পান-জর্দার ব্যবহার, অপুষ্টি এবং দেরিতে রোগ নির্ণয়কে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ডেন্টাল অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত তাঁর উপস্থাপনায় ভার্চুয়াল সার্জিক্যাল প্ল্যানিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং প্রমাণভিত্তিক মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেন্ট্রাল সেমিনার সাব-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেছার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেসিডেন্টরা অংশগ্রহণ করেন।