স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-এ বিএসসি ইন নার্সিং ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্যাপিং সেরিমনি এবং এমএসসি ইন নার্সিং চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নার্সিং কেবল একটি পেশা নয়, এটি মানবসেবার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। দক্ষতা, মানবিকতা ও আন্তরিকতার সমন্বয়ে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করাই একজন নার্সের প্রধান দায়িত্ব।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শপথ গ্রহণ, থিম সং পরিবেশন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজন সম্পন্ন হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, বিশ্বব্যাপী নার্সিং একটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা। বিএসসি ইন নার্সিংয়ের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যে শপথ নিয়েছেন, তা যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের বিশ্বাস ও কর্মজীবনের অংশ হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, “নার্সরা রোগীদের আশ্রয়ের স্থল। রোগীর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা, তাদের সুখ-দুঃখের অনুভূতি ভাগাভাগি করা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদানই একজন প্রকৃত নার্সের পরিচয়। নার্সরা হাসপাতালের প্রাণ। তাদের নিষ্ঠা ও মানবিক সেবার মাধ্যমে হাসপাতালের এই প্রাণস্পন্দন প্রতিনিয়ত অটুট রাখতে হবে। রোগীসেবায় কোনো ধরনের স্থবিরতা গ্রহণযোগ্য নয়।”
উপাচার্য আরও বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সরা দেশের জন্য রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের নার্সরা সুনামের সঙ্গে কাজ করবেন—এমন প্রত্যাশাই বিশ্ববিদ্যালয়ের।
নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. মনির হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কালাম এবং প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ক্যাপিং সেরিমনিতে শিক্ষার্থীরা যে ক্যাপ পরিধান করেন, সেটি দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও সেবার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। সময়োপযোগী ও মানসম্পন্ন নার্সিং সেবার মাধ্যমে অসংখ্য মুমূর্ষু রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। মানবসেবা সবচেয়ে বড় ইবাদত এবং নার্সিং পেশায় এই মূল্যবোধ সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত হয়।
উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, রোগীর সুস্থতা অর্জনের ক্ষেত্রে নার্সরা অনিবার্য অংশীদার। তিনি জানান, বর্তমান প্রশাসন মেধার ভিত্তিতে ৩২ হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে ৫১৬ জন নার্স নিয়োগ দিয়েছে এবং দীর্ঘদিনের গ্রেডিং-সংক্রান্ত জটিলতারও সমাধান করেছে।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, “সেবাই আমাদের ধর্ম, সেবাই আমাদের কর্ম”—এই আদর্শ ধারণ করতে পারলে রোগীদের নার্সিং সেবা নিয়ে বিদ্যমান অসন্তুষ্টি অনেকাংশে দূর হবে।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কালাম বলেন, নার্সিং সেবা ছাড়া আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না। রোগীদের পাশে সার্বক্ষণিক অবস্থান করে নার্সরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। উন্নত নার্সিং সেবার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ বলেন, রোগীদের সবচেয়ে অসহায় মুহূর্তে নার্সরাই তাদের পাশে থাকেন। তাই দক্ষতা, সততা, মানবিকতা ও ভালো আচরণের মাধ্যমে রোগীসেবা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সদের দীর্ঘ ১৭ বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়েছে এবং নার্সিং শিক্ষা ও সেবার উন্নয়নে ভবিষ্যতেও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. মনির হোসেন খান বলেন, দেশে উচ্চমানের নার্সিং শিক্ষা বিস্তারে বিএমইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি, এমএসসি এবং পিএইচডি পর্যায়ের নার্সিং শিক্ষা চালু রয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে উচ্চতর নার্সিং শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট নার্সিং বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সহযোগী অধ্যাপক হারুন অর রশীদ গাজী, সহযোগী অধ্যাপক দেলোয়ারা বেগম, সহকারী অধ্যাপক হাছিনা আক্তার, সহকারী অধ্যাপক মোছা. নাছরিন, সহকারী অধ্যাপক নুপুর ডি কস্তা, সহকারী অধ্যাপক বিথীকা মালী, প্রভাষক নাঈমা ছিদ্দিকা, টুম্পা ঘরামী, জুবায়দা খাতুন, বুশরা ই জান্নাত, দীপিকা মজুমদার, সুজন মিয়া এবং সেবা তত্ত্বাবধায়ক রাশিদা বেগমসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।