স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে রোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে এক নার্সকে সতর্ক ও তিরস্কার করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও সেবায় অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে তিনি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেন।
জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় এক রোগী মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, দায়িত্বে থাকা এক নার্স রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, অশোভন ভাষায় কথা বলেন এবং হাসপাতালের বিছানার নোংরা চাদর সময়মতো পরিবর্তন করা হয় না। রোগীর দাবি, সেদিন মন্ত্রী পরিদর্শনে আসার কারণেই কেবল ওয়ার্ডের চাদর পরিবর্তন করা হয়েছে।
অভিযোগ শোনার পরপরই সংশ্লিষ্ট নার্সকে ডেকে পাঠান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি নার্সের পরিচয় ও আইডি নম্বর জানতে চান এবং অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। এ সময় অভিযুক্ত নার্স মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাকে উদ্দেশ করে বলেন, রোগীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার কোনো অধিকার স্বাস্থ্যকর্মীদের নেই। জনগণের করের টাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়, তাই রোগীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ এবং আন্তরিক সেবা নিশ্চিত করা প্রত্যেক স্বাস্থ্যকর্মীর দায়িত্ব।
এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট নার্সকে ভবিষ্যতে রোগীদের সঙ্গে পেশাদার ও মানবিক আচরণ করার নির্দেশ দেন। উপস্থিত সূত্রের দাবি, নার্স ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ আর করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান নিয়েও খোঁজখবর নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে মতামত শোনেন।
রোগীদের অভিযোগ দ্রুত জানাতে তিনি নিজের যোগাযোগ নম্বরও দিয়ে যান বলে জানা গেছে। মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে কোনো রোগী বা তাঁর স্বজন যদি কোনো স্বাস্থ্যকর্মীর অসদাচরণ বা সেবায় অবহেলার শিকার হন, তাহলে সরাসরি তাঁকে বিষয়টি জানাতে পারেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবার মান উন্নয়ন, রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শনও সেই কার্যক্রমের অংশ।