স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে দেশের রুটিন সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর আওতায় এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস) টিকাদান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও টেকসই করার লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় অ্যাডভোকেসি কর্মশালা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে টিকাদান কার্যক্রমের পরিধি ও কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আইইডিসিআরের অডিটোরিয়ামে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে কারিগরি ও সহযোগিতামূলক সহায়তা প্রদান করে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রবাথ চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জনস্বাস্থ্য উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব এ টি এম সাইফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মালাই আহমদজাই।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ইপিআই কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), গ্যাভি, গেটস ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
‘Strengthening HPV Vaccination in Routine EPI’ শীর্ষক এ কর্মশালায় রুটিন ইপিআইয়ের আওতায় এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছাত্রী এবং স্কুলবহির্ভূত ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের টিকার আওতায় আনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং কার্যকর বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার বাংলাদেশের নারীদের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি। এইচপিভি টিকা সময়মতো প্রদান করা গেলে ভবিষ্যতে এ রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, অভিভাবক এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, স্কুলভিত্তিক টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি স্কুলবহির্ভূত কিশোরীদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, কমিউনিটি পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী এবং জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মশালায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ২০২৬ সালের মধ্যে দেশব্যাপী রুটিন ইপিআই কর্মসূচির স্থায়ী অংশ হিসেবে এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রমকে সুসংহত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিভাগীয় পর্যায়ের অ্যাডভোকেসি কর্মশালা মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন, সরকারের নেতৃত্বে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কিশোরীদের জরায়ুমুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে রুটিন ইপিআই কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়।