স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৪ পি এম

সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর ঢাকা গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

ঢাকা: ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তুলতে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, সবার আগে নিজের সন্তানদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’

সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কেউই চান না তাঁর সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হোক। শিশুরা শুধু নিজেদের বাসার আশপাশে থাকে না; স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। তাই শুধু নিজ নিজ এলাকা নয়, পুরো শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা। এ সমস্যা এক দিনে কিংবা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো সম্ভব।

সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ সমস্যা সমাধানের সঙ্গে জড়িত। পরিবর্তন আনতে সময় লাগতে পারে, তবে আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলে ইতিবাচক ফল আসবে। এ ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস ও সদিচ্ছা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিভিন্ন স্থানে গেলে সেখানকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারাও একইভাবে নগরীর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগী হলে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকেও লন্ডনের অনেক এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে তারা পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশের পরিচ্ছন্ন শহর দেখে দেশে ফিরে শুধু আফসোস করলে হবে না; নিজেদের দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা ওই প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ঢাকার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, আগের তুলনায় শহরের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই কর্মকর্তা অনেক পরিবর্তনের কথা না বললেও কিছুটা উন্নতির কথা বলেছেন। এতে বোঝা যায়, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিবর্তন সম্ভব এবং সবাই মিলে কাজ করলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি করা যাবে।

নগরীর সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোথাও সড়ক বিভাজক নতুন করে তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যের সমালোচনার পাশাপাশি নিজেদের দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে, তা নিয়েও ভাবতে হবে। দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টার ঘাটতি রয়েছে কি না, সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন। এসব তথ্য পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার পদ্ধতি নিয়েও তিনি খোঁজখবর নেন।

এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিওচিত্রও দেখেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।