স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৯ পি এম

স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াতে চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক

ছবি : সংগৃহীত

যানজট এড়িয়ে নিরাপদে সাইকেল চালানোর সুযোগ, নিয়মিত শরীরচর্চা আর পরিবেশদূষণ কমানোর উদ্যোগ-চট্টগ্রামে চালু হয়েছে দেশের প্রথম আলাদা সাইকেল ট্র্যাক। নগরীর বিমানবন্দর সড়কে নির্মিত ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ট্র্যাক সাইকেলচালকদের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত করবে বলে আশা করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ট্র্যাকটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ‘চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়ক সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ট্র্যাকটি নির্মাণ করা হয়েছে। চার লেনের এই সড়ক শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত বিস্তৃত। সড়কের দুই পাশে রয়েছে ফুটপাত। পাশাপাশি গাছপালা দিয়ে সাজানো হাঁটার পথের পাশে তৈরি করা হয়েছে সাইকেল চালানোর আলাদা লেন।

সাইকেলচালকদের জন্য আলাদা পথ থাকলে ব্যস্ত সড়কে অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে চলাচলের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এতে সাইকেল আরোহীরা তুলনামূলক নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন। পাশাপাশি স্বল্প দূরত্বে মোটরযানের পরিবর্তে সাইকেল ব্যবহারের আগ্রহও বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্যের দিক থেকেও নিয়মিত সাইকেল চালানোর রয়েছে নানা উপকারিতা। এটি শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ায়, হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত সাইকেল চালানো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। তবে এসব উপকার পেতে নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি সুষম খাবার ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি।

পরিবেশের জন্যও সাইকেল একটি কার্যকর বাহন। এতে জ্বালানি পোড়াতে হয় না, ফলে সরাসরি ধোঁয়া নির্গত হয় না। স্বল্প দূরত্বে সাইকেলের ব্যবহার বাড়লে জ্বালানির ওপর নির্ভরতা এবং যানবাহনজনিত বায়ুদূষণ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে শহরের যানজট কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সাইকেল চলাচলের জন্য আলাদা লেন চালু হওয়ায় আরোহীদের নিরাপত্তা বাড়বে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে এবং নগরবাসী আরও স্বাস্থ্যকর ও সক্রিয় জীবনযাপনে উৎসাহিত হবেন।

নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি শহরের সৌন্দর্য বাড়ানোও এই উদ্যোগের লক্ষ্য। উদ্বোধনের পর অর্থমন্ত্রী, মেয়র, সংসদ সদস্য, অতিথি ও সাইকেল আরোহীরা নতুন ট্র্যাকে সাইকেল চালান।

তবে এমন উদ্যোগের সুফল পেতে ট্র্যাকের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাইকেলচালকদের নির্বিঘ্ন চলাচলের ব্যবস্থা করা জরুরি।

চট্টগ্রামে এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের অন্যান্য শহরেও সাইকেলবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার পথ তৈরি হতে পারে। এতে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি নগরবাসীর সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনের সুযোগও বাড়বে।