স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০০ পি এম

অবৈধ ইটভাটায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, ব্যবস্থা নিতে পরিবেশমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন হুইপ নিজান

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে বায়ুদূষণ এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ, কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটা প্রতিরোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান।

এ বিষয়ে গত ১৫ অক্টোবর মন্ত্রীকে একটি আধা-সরকারি পত্র পাঠান তিনি।

পত্রে হুইপ নিজান উল্লেখ করেন, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। এ অঞ্চলের কৃষিজমি স্থানীয় জনগণের জীবিকা, খাদ্য উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রচলিত আইন ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি অবৈধভাবে কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় ব্যবহার করছেন।

এতে একদিকে কৃষিজমির উর্বরতা ও উৎপাদনক্ষমতা কমছে, অন্যদিকে কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়া, ধুলাবালি ও অন্যান্য দূষণকারী উপাদানের কারণে বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়।

পত্রে আরও বলা হয়, কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় পরিবহনের কাজে অতিরিক্ত মালামালবোঝাই ট্রাক্টর-ট্রলি, ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহন ব্যবহারের ফলে এলাকার গ্রামীণ সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কে ভাঙন, খানাখন্দ ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এসব যানবাহনের কারণে ধুলাবালি ও শব্দদূষণ বৃদ্ধির পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

হুইপ নিজান পরিবেশ মন্ত্রীকে অবৈধ ইটভাটাগুলো সরেজমিনে তদন্ত করে চিহ্নিত করার, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও আইনগত অনুমোদন যাচাইয়ের এবং আইন লঙ্ঘনকারী ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধসহ যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে কৃষিজমির উর্বর মাটি অবৈধভাবে কাটা ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

পত্রে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার কৃষিজমি, কৃষকের স্বার্থ, জনস্বাস্থ্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও গ্রামীণ সড়ক রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

পত্রের অনুলিপি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এবং রামগতি ও কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে।