স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ঢাকা: কথায় আছে, ‘পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে!’ অর্থাৎ বিপদ যখন আসে, তখন এমন জায়গায় এসে পড়ে, যেখান থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে এক চিকিৎসকের ক্ষেত্রে যেন তেমন ঘটনাই ঘটেছে।
নিজের কক্ষে বসে ধূমপান করছিলেন হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। হয়তো ভাবেননি, সেই মুহূর্তেই তাঁর কক্ষে হাজির হবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিন্তু শনিবার দুপুরে হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী যখন তাঁর কক্ষে প্রবেশ করেন, তখন চিকিৎসককে ধূমপানরত অবস্থায় দেখতে পান। শুধু ধূমপানই নয়, কক্ষের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশও প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।
শিশুদের চিকিৎসার মতো সংবেদনশীল দায়িত্ব যেখানে পালন করা হয়, সেখানে একজন চিকিৎসকের কক্ষে এমন দৃশ্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি যেন সেই পুরোনো প্রবাদকেই মনে করিয়ে দেয়-‘পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে!’ নিয়মিত দিনের মতোই চলছিল সবকিছু। কিন্তু একটি আকস্মিক পরিদর্শন মুহূর্তেই বদলে দিল পরিস্থিতি।
তবে এ ঘটনা কেবল একজন চিকিৎসকের ধূমপান কিংবা একটি অপরিচ্ছন্ন কক্ষের গল্প নয়। এটি দায়িত্ববোধ, পেশাগত শৃঙ্খলা ও কর্মক্ষেত্রে জবাবদিহিরও একটি বার্তা। যে প্রতিষ্ঠানে অসুস্থ শিশুরা সুস্থ হওয়ার আশায় আসে, সেখানে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা সবার কর্তব্য।
প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন তাই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের জন্য যেমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তেমনি হাসপাতালের অন্যদের জন্যও রেখে গেছে একটি সতর্কবার্তা-দায়িত্বের জায়গায় অবহেলা করলে তার জবাবদিহি করতেই হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত ‘পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে’ প্রবাদটি এখানে কেবল একজনের বিপাকে পড়ার গল্প নয়; বরং দায়িত্বের জায়গায় অসতর্কতার পরিণতি নিয়ে ভাবারও উপলক্ষ।