স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৫ পি এম

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা:ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার দুপুরে ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় মহাসড়কের দুই পাশে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

সড়ককে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুরে আমিনবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সাভার, মানিকগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন এ মহাসড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে।

শিল্পাঞ্চল, আবাসিক এলাকা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে যাতায়াতের জন্যও সড়কটি ব্যবহার করেন অসংখ্য মানুষ। এ কারণে মহাসড়কের দুই পাশের পরিবেশ উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সড়কসংলগ্ন এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

সবুজায়ন কর্মসূচির আওতায় সড়কের দুই পাশে গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ মহাসড়কটির প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সড়কের দুই পাশ আরও সবুজ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি গাছের বৃদ্ধি ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুমানের উন্নয়ন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক হতে পারে। সড়কের পাশে উপযুক্ত প্রজাতির গাছ লাগানো হলে তা দীর্ঘমেয়াদে ছায়া সৃষ্টি এবং স্থানীয় পরিবেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এ ধরনের উদ্যোগের সুফল পেতে হলে শুধু চারা রোপণ করলেই হবে না, বরং নিয়মিত পরিচর্যা, প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ এবং গাছের সুরক্ষার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মতো ব্যস্ত সড়কে বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে। সড়কের নিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল, পথচারীদের সুবিধা এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর বিষয় বিবেচনায় নিয়ে গাছের প্রজাতি ও রোপণের স্থান নির্ধারণ করা জরুরি।

একই সঙ্গে গাছের শিকড়ের বিস্তার, সড়কের দৃশ্যমানতা এবং সড়কবাতি ও অন্যান্য অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধন শুধু গাছ লাগানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সড়কের দুই পাশ পরিচ্ছন্ন রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, পরিকল্পিতভাবে সবুজ জায়গা সংরক্ষণ এবং সড়কসংলগ্ন পরিবেশের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমেও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য আরও পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি গুরুত্বপূর্ণ। রোপণ করা চারাগুলোর বেঁচে থাকার হার পর্যবেক্ষণ, ক্ষতিগ্রস্ত চারা প্রতিস্থাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচর্যার ব্যবস্থা থাকলে কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা গেলে গাছের সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমিনবাজারে গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগকে সামনে নিয়ে এসেছে।

তবে কর্মসূচির আওতায় মোট কতটি গাছের চারা রোপণ করা হবে, কত দূর পর্যন্ত এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে কোন কোন সংস্থা থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ আরও সবুজ ও নান্দনিক হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ কর্মসূচিকে টেকসই করা সম্ভব হবে।

রোববার দুপুরে আমিনবাজারে গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বলে জানিয়েছেন তাঁর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।