স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৫ পি এম

১৮ অক্টোবর থেকে সিসার বিষক্রিয়া প্রতিরোধ সপ্তাহ শুরু

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: বিশ্বজুড়ে সিসার বিষক্রিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে আগামী ১৮ অক্টোবর শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক সিসার বিষক্রিয়া প্রতিরোধ সপ্তাহ ২০২৬। ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ সপ্তাহ।

এবারের প্রতিপাদ্য ‘শনাক্তকরণ থেকে প্রতিরোধ’। সিসার সংস্পর্শজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, সিসার সংস্পর্শ বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এই বিষাক্ত ধাতুর সংস্পর্শের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে ৩৫ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুতে ভূমিকা রাখে সিসা।

বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। সিসার সংস্পর্শ কমানো এবং এর উৎস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, শিশুদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র বিকাশের পর্যায়ে থাকায় সিসার বিষক্রিয়ায় তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শরীরে সিসা প্রবেশ করলে মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শেখার ক্ষমতা, আচরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে।

এমনকি সিসার অল্প মাত্রার সংস্পর্শও শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এখন পর্যন্ত সিসার এমন কোনো মাত্রা নির্ধারণ করা যায়নি, যাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায়।

শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্করাও সিসার বিষক্রিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। দীর্ঘদিন সিসার সংস্পর্শে থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ ও কিডনির সমস্যাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে সিসার বিষক্রিয়ার লক্ষণ সব সময় শুরুতেই স্পষ্ট হয় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার পর সমস্যাটি শনাক্ত হয়।

সিসা বিভিন্ন উৎস থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। সিসাযুক্ত রং, রান্নার পাত্র, প্রসাধনী, মসলা, শিল্পকারখানার দূষণ এবং অনিরাপদ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এর উল্লেখযোগ্য উৎস।

এসব উৎস থেকে দূষিত খাবার, ধুলা ও পরিবেশের মাধ্যমে সিসা শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই সিসার বিষক্রিয়া প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি পরিবেশ ও পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

আন্তর্জাতিক সিসার বিষক্রিয়া প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে ডব্লিউএইচও দেশগুলোকে সিসার সংস্পর্শ কমাতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন, বিদ্যমান আইন কার্যকর করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য থেকে সিসা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

পাশাপাশি সিসার বিষক্রিয়া শনাক্ত করতে রক্তে সিসার মাত্রা পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং পরীক্ষাগারের সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

ডব্লিউএইচওর সর্বশেষ প্রকাশিত বৈশ্বিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিশ্বের অর্ধেকেরও কম দেশে সিসাযুক্ত রং নিয়ন্ত্রণে বাধ্যতামূলক আইন রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সিসার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও দূষণের উৎস চিহ্নিত করতে কার্যকর আইন এবং তার বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংস্থাটি ২০২৭ সালে সিসার ক্ষতি কমাতে একটি বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। একই বছর দেশগুলোকে সিসার বিষক্রিয়া প্রতিরোধে সহায়তা করতে একটি কারিগরি নির্দেশিকাও প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসার বিষক্রিয়া প্রতিরোধে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করলেই হবে না, বরং যে উৎস থেকে সিসা শরীরে প্রবেশ করছে, তা দূর করতে হবে। নিরাপদ পণ্য ব্যবহার, শিল্পকারখানার দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের সিসার সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সিসার বিষক্রিয়া প্রতিরোধ সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য ‘শনাক্তকরণ থেকে প্রতিরোধ’ সিসার সংস্পর্শ শনাক্ত করার পাশাপাশি এর উৎস নির্মূল এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরছে।