স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
শিশুদের ক্যানসার কেন হয়, তা নিয়ে নতুন একটি সম্ভাব্য সূত্র খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু শিশুর শরীরে এমন অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা কোষের ডিএনএ মেরামতের কাজে বাধা দিতে পারে। এর ফলে ক্যানসার তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা।
মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে ডিএনএ থাকে। এটি শরীরের গঠন ও কাজের নির্দেশনা দেয়। বিভিন্ন কারণে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরের বিশেষ কিছু প্রোটিন সেই ক্ষতি মেরামত করে। কিন্তু এই কাজ ঠিকমতো না হলে কোষে পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নরওয়ের বার্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও তাঁদের সহকর্মীরা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের রক্ত এবং ক্যানসারের নমুনা পরীক্ষা করে এই তথ্য পেয়েছেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ফ্রন্টিয়ার্স ইন ইমিউনোলজি সাময়িকীতে।
গবেষণায় দেখা যায়, ২ থেকে ১৯ বছর বয়সী ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের রক্তে ডিএনএ মেরামতের কাজে যুক্ত কয়েকটি প্রোটিনের বিরুদ্ধে তৈরি অ্যান্টিবডির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি।
সাধারণত অ্যান্টিবডি শরীরকে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। কিন্তু কখনো কখনো রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভুল করে নিজের শরীরের স্বাভাবিক প্রোটিনকেও আক্রমণ করে। এ ধরনের অ্যান্টিবডিকে অটোঅ্যান্টিবডি বলা হয়।
গবেষকদের ধারণা, এসব অটোঅ্যান্টিবডি কোষের ভেতরে প্রবেশ করে ডিএনএ মেরামতের কাজে যুক্ত প্রোটিনের কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে। ফলে ডিএনএর ক্ষতি ঠিকমতো মেরামত না হলে ক্যানসার তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে আরও তথ্য পেতে গবেষকেরা যুক্তরাজ্যের দুটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় অংশ নেওয়া ৫৯ জন শিশুর নমুনা বিশ্লেষণ করেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন পরবর্তী সময়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিল। দেখা যায়, যেসব শিশু পরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিল, তাদের রক্তে ডিএনএ মেরামতের সঙ্গে যুক্ত অন্তত একটি প্রোটিনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি থাকার সম্ভাবনা অন্য শিশুদের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি ছিল। রক্তের নমুনা সংগ্রহের গড়ে ছয় বছর পর তাদের ক্যানসার শনাক্ত হয়েছিল।
তবে এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কম ছিল। তাই এসব অ্যান্টিবডিই শিশুদের ক্যানসারের কারণ, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
কেন শরীর নিজের স্বাভাবিক প্রোটিনের বিরুদ্ধে এমন অ্যান্টিবডি তৈরি করে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। সংক্রমণ কিংবা রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার অস্বাভাবিক কার্যকলাপ এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা।
বিজ্ঞানীরা এখন পরীক্ষা করে দেখছেন, এসব অ্যান্টিবডি সত্যিই ডিএনএ মেরামতের কাজে কতটা বাধা সৃষ্টি করে। তাঁদের আশা, ভবিষ্যতে এই আবিষ্কার শিশুদের ক্যানসারের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করার নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বর্তমানে এই পদ্ধতি শিশুদের ক্যানসার শনাক্ত করার নিয়মিত পরীক্ষা হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।