স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ পি এম

কোভিডের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে আক্রান্ত ফুসফুস, মস্তিষ্ক ও পরিপাকতন্ত্র

ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সেরে গেলেও অনেকের শরীরে দীর্ঘদিন ধরে থেকে যায়  শ্বাসকষ্ট, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের সমস্যা কিংবা হজমের জটিলতা । দীর্ঘ কোভিড নামে পরিচিত এই সমস্যার পেছনে কী কারণ কাজ করে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

এবার দীর্ঘ কোভিডের তীব্রতার সঙ্গে মুখ ও ফুসফুসে বসবাসকারী জীবাণুর ধরন ও পরিমাণের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা।

যুক্তরাজ্যের ৭৭১ জন রোগীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ কোভিডে গুরুতর উপসর্গে ভোগা ব্যক্তিদের মুখ ও ফুসফুসের জীবাণুর ধরনে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

এসব পরিবর্তনের সঙ্গে শুধু শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা নয়, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন উপসর্গেরও সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে *ইউরোপিয়ান রেসপিরেটরি জার্নাল* সাময়িকীতে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের মার্চের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ৩৮টি হাসপাতালে কোভিড-১৯-এর চিকিৎসা নিয়েছিলেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পাঁচ মাস পর তাঁদের উপসর্গের তীব্রতা অনুযায়ী চারটি দলে ভাগ করা হয়। পরে মুখের লালা ও ফুসফুস থেকে বের হওয়া কফের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন জীবাণুর উপস্থিতি ও পরিমাণ নির্ণয় করা হয়।

শ্বাসকষ্ট থেকে ব্রেন ফগ ও হজমের সমস্যা

ফলাফলে দেখা যায়, দীর্ঘ কোভিডে গুরুতরভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মুখ ও ফুসফুসের জীবাণুর ধরনে আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ‘ব্রেন ফগ’-এর মতো উপসর্গের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ব্রেন ফগ হলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও চিন্তাভাবনার ক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া পেটব্যথা, বমিভাব, ডায়রিয়া ও ক্ষুধামন্দার মতো পরিপাকতন্ত্রের সমস্যার সঙ্গেও ফুসফুসের জীবাণুর পরিবর্তনের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

গবেষকেরা আরও দেখেছেন, ল্যাকটিক অ্যাসিড উৎপাদনকারী কিছু ব্যাকটেরিয়ার আধিক্যের সঙ্গে দীর্ঘ কোভিডের উপসর্গ এবং রক্তে প্রদাহের লক্ষণের সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকদের মতে, মুখ ও শ্বাসতন্ত্রের জীবাণুর পরিবর্তন দীর্ঘ কোভিডের বিভিন্ন উপসর্গ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।

প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজন আরও গবেষণা

তবে জীবাণুর এই পরিবর্তন দীর্ঘ কোভিডের কারণ, নাকি করোনার সংক্রমণের পর শরীরে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনের ফল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। একইভাবে সময়ের সঙ্গে এসব জীবাণুর পরিবর্তন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে কি না, সেটিও জানা যায়নি।

গবেষকদের মতে, দীর্ঘ কোভিডের প্রকৃত কারণ বুঝতে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এই যোগসূত্র নিশ্চিত হলে রোগের ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তা সহায়ক হতে পারে।

তবে জীবাণুর পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ করে দীর্ঘ কোভিডের চিকিৎসা করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা প্রয়োজন।