স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৯ পি এম

ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন আশার আলো এআই

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শরীরের রোগপ্রতিরোধী কোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু এসব কোষ সব সময় ক্যানসারের টিউমারের ভেতরে পৌঁছাতে পারে না। কিছু টিউমার তাদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে।

এবার কোন কারণে রোগপ্রতিরোধী কোষ টিউমারের দিকে যায়, আর কী কারণে বাধার মুখে পড়ে, তা বুঝতে নতুন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

যুক্তরাষ্ট্রের এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারের গবেষকেরা তৈরি করেছেন ‘স্পেসার’ (SPACER) নামের এই প্রযুক্তি। এটি টিউমারের আশপাশের কোষ ও বিভিন্ন জৈবিক সংকেত বিশ্লেষণ করে রোগপ্রতিরোধী কোষের চলাচল সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে।

গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ক্যানসারের চিকিৎসার নতুন উপায় খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে নেচার বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সাময়িকীতে।

কীভাবে কাজ করে এআই?

আমাদের শরীরের কোষগুলো বিভিন্ন সংকেতের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এসব সংকেতের সাহায্যে রোগপ্রতিরোধী কোষ শরীরের নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছায়।

কিন্তু টিউমারের আশপাশের পরিবেশ কখনো এসব কোষকে আকর্ষণ করে, আবার কখনো তাদের প্রবেশে বাধা দেয়।

নতুন এআই প্রযুক্তিটি টিস্যুর বিভিন্ন জায়গায় কোন জিন সক্রিয় রয়েছে এবং আশপাশের কোষগুলো কীভাবে কাজ করছে, তা বিশ্লেষণ করে। এর মাধ্যমে রোগপ্রতিরোধী কোষ কোথায় যাচ্ছে এবং কেন সেখানে যাচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়।

গবেষকেরা বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ৩৭টি তথ্যসেট ব্যবহার করে প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষায় রোগপ্রতিরোধী কোষকে আকর্ষণ করার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সংকেত শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এটি প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় চার থেকে ২১ গুণ বেশি কার্যকর ছিল।

কেন কিছু টিউমারে রোগপ্রতিরোধী কোষ পৌঁছাতে পারে না?

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব টিউমারে অ্যান্টিজেন উপস্থাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত জিন সক্রিয় থাকে, সেসব টিউমারে টি-কোষের উপস্থিতি বেশি হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। টি-কোষ একধরনের রোগপ্রতিরোধী কোষ, যা ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সাহায্য করতে পারে।

অন্যদিকে, মিউসিন নামের একধরনের প্রোটিন টিউমারের চারপাশে বাধা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকেরা ইঙ্গিত পেয়েছেন।

মেলানোমা ও পাকস্থলীর ক্যানসারের কয়েকটি তথ্যসেটে মিউসিনের মাত্রা বেশি থাকার সঙ্গে টিউমারে টি-কোষের প্রবেশ কম হওয়া এবং বিশেষ ধরনের রোগপ্রতিরোধভিত্তিক চিকিৎসায় তুলনামূলক খারাপ সাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

তবে মিউসিনই সরাসরি এসব সমস্যার কারণ কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ক্যানসারের বাইরেও কাজে লাগতে পারে

গবেষকেরা হৃদ্‌যন্ত্রের প্রদাহ নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণাতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। এতে হৃদ্‌যন্ত্রের কোন অঞ্চলে রোগপ্রতিরোধী কোষ জমা হচ্ছে এবং কোন জৈবিক সংকেত এর সঙ্গে যুক্ত, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ক্যানসারের চিকিৎসায় রোগীর সাড়া বোঝা, অটোইমিউন রোগ নিয়ে গবেষণা এবং শরীরের প্রদাহজনিত বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে নতুন তথ্য পেতে সাহায্য করতে পারে।

তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার সিদ্ধান্তে এটি ব্যবহারের আগে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।

গবেষকদের আশা, রোগপ্রতিরোধী কোষ কীভাবে ক্যানসারের টিউমার খুঁজে পায় এবং কোন বাধার কারণে সেখানে পৌঁছাতে পারে না, তা বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর চিকিৎসা তৈরির পথ খুলতে পারে।