স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

গ্রামীণ স্বাস্থ্য ডেস্ক, স্থানীয় প্রতিনিধি
  ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৫ পি এম

তিন বছর ধরে অচল রক্ত পরীক্ষার মেশিন, ভোগান্তিতে রোগীরা

ফাইল ছবি

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে তিন বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে রক্ত পরীক্ষার হেমাটোলজি অ্যানালাইজার মেশিন। প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান (রিএজেন্ট) না থাকায় মেশিনটি চালু করা যাচ্ছে না।

ফলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের রক্ত পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি সময়ক্ষেপণ ও ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীদের দ্রুত ও স্বল্প খরচে রক্ত পরীক্ষার সুবিধা দিতে ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) থেকে মেশিনটি সরবরাহ করা হয়। তবে স্থাপনের এক মাস পরই রিএজেন্টের অভাবে এটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে মেশিনটি আর সচল করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, প্যাথলজি বিভাগের সামনে রোগীদের ভিড়। অনেককে পরীক্ষা করানোর জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা হাসপাতালের বাইরে থেকে করাতে গিয়ে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তাঁদের।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগুনবাড়ি এলাকার রনজু আলী দুই দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারছেন না। চিকিৎসক তাঁকে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা দিয়েছেন। কিছু পরীক্ষা হাসপাতালে করাতে পারলেও বাকিগুলো বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। বাইরে রক্ত পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকা চাওয়া হলেও অনুরোধের পর ৪০০ টাকায় করিয়েছেন তিনি। হাসপাতালে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা থাকলে তাঁর টাকা বাঁচত এবং অসুস্থ শরীরে বাইরে যেতে হতো না।

সদর উপজেলার ভুল্লি থেকে আসা রোগীর স্বজন রোকেয়া বেগম বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করাতে বাইরে যেতে হয়। পরীক্ষা করিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসতে আসতে অনেক সময় বহির্বিভাগের চিকিৎসক চলে যান। ফলে পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে অনেক ক্ষেত্রে পরদিন আবার হাসপাতালে আসতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটিই ব্যয় হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার জমিদারপাড়ার বাসিন্দা জনি রহমান বলেন, হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল সংকটের কারণে অনেক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে রোগীদের অধিকাংশ পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে দ্রুত রিপোর্ট পাওয়া এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সম্ভব হতো।

হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ল্যাব ইনচার্জ ফণীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, হাতে পরীক্ষা করতে যেখানে প্রায় এক ঘণ্টা লাগে, সেখানে হেমাটোলজি অ্যানালাইজার মেশিনে মাত্র দুই মিনিটে রিপোর্ট পাওয়া যায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মেশিনটির মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার থেকে দেড় হাজার রোগীর রক্ত পরীক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট না থাকায় এটি চালু করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. নূর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, রক্ত পরীক্ষা করাতে গিয়ে রোগীরা কিছুটা ভোগান্তিতে পড়ছেন। রিএজেন্ট সংগ্রহের জন্য দরপত্র দেওয়া হয়েছে। রিএজেন্ট পাওয়া গেলে মেশিনটি আবার চালু করা হবে।