স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

গ্রামীণ স্বাস্থ্য ডেস্ক, স্থানীয় প্রতিনিধি
  ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৭ পি এম

সাংবাদিকদের নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্যে বিতর্ক, তদন্তের আশ্বাস

ফাইল ছবি

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে তাঁর করা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এ ঘটনায় খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে ডা. মিজানুর রহমান লেখেন, ‘আমার মনে হয় কেয়ামতের ময়দান থেকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়া কর্মী।’

তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

পরে পোস্টটি তাঁর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে মুছে ফেলা হয়েছে অথবা এর গোপনীয়তা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সাতক্ষীরা ও তালা উপজেলার সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। তাই সাংবাদিকদের একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীকে নিয়ে এমন মন্তব্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে কাম্য নয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বলেন, এ ধরনের মন্তব্য সাংবাদিক সমাজকে হেয় করার শামিল। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকা উচিত। তাঁরা এ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. মো. আ. সালাম বলেন, ‘একজন চিকিৎসক সাংবাদিকদের নিয়ে কখনো এমন লিখতে পারেন না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দায়িত্বশীল পদে থাকা কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও পেশাগত শালীনতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা।