স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ফরিদপুর: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অব্যবহৃত কক্ষের তালা ভেঙে ১৫টি সিলিং ফ্যানসহ লোহার পাইপ ও অ্যাঙ্গেল চুরির ঘটনায় মো. মান্না শেখকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালত এ দণ্ড দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দণ্ডপ্রাপ্ত মান্না শেখ বোয়ালমারী পৌর বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ ও প্রস্তাবিত উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিজাউল হক শেখের ছেলে। তিনি পেশায় একজন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি অব্যবহৃত কক্ষের তালা ভেঙে মালামালগুলো চুরি করা হয়। পরদিন শনিবার সকালে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবনের পেছনে অবস্থিত অব্যবহৃত ক্যান্টিন কক্ষের তালা ভেঙে এসব মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে কোনো নৈশপ্রহরী না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে চুরির ঘটনা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এক ব্যক্তিকে মালামাল নিয়ে বের হতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
পরে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মান্না শেখকে শনাক্ত করে। চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
পরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের পর উদ্ধার করা মালামালসহ তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর আগেও একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল এলাকায় অবস্থানকারী বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালকদের কেউ কেউ এসব ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন বলে তাঁদের দাবি।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্তের কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।