স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

গ্রামীণ স্বাস্থ্য ডেস্ক, স্থানীয় প্রতিনিধি
  ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪০ পি এম

ডামুড্যায় নার্সিং কলেজে শিক্ষকসংকট, ৭ ল্যাবের ৬টিই অচল

ফাইল ছবি

শরীয়তপুর: প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শরীয়তপুরের ডামুড্যায় আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজে শিক্ষকসংকট ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সীমিত সুযোগে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

চার ব্যাচের ১৫৮ শিক্ষার্থীর পাঠদানের দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। সাতটি ল্যাবের মধ্যে চালু রয়েছে মাত্র একটি। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষকের অভাবে বাকি ছয়টি ল্যাব ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

২০২৩ সালে ডামুড্যা উপজেলার দক্ষিণ ডামুড্যা এলাকায় পাঁচ একর জমির ওপর কলেজটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে চার ব্যাচে ১৫৮ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।

শিক্ষকসংকটের কারণে নিয়মিত পাঠদান, নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ করা এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক দিকনির্দেশনা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনে অধ্যক্ষকেও ক্লাস নিতে হচ্ছে।

কলেজের একমাত্র শিক্ষক অসিমা রানী সরকার ২২টি বিষয়ের পাঠদান করছেন। তিনি বলেন, ২২টি বিষয়ের জন্য তিনি একাই শিক্ষকতা করছেন। অধ্যক্ষও ক্লাস নেন। সাতটি ল্যাবের জন্য আলাদা শিক্ষক প্রয়োজন হলেও শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা দাস বলেন, ২২টি বিষয়ের বিপরীতে শিক্ষক মাত্র একজন এবং অধ্যক্ষ একজন। সব বিষয় ইংরেজিতে পড়ানো হয়। ফলে একজন শিক্ষকের কাছ থেকে পর্যাপ্ত শিক্ষা পাওয়া এবং নিজেরা পড়াশোনা করে এগিয়ে যাওয়া নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।

শিক্ষার্থী আফসানা আক্তার বলেন, ল্যাবে ব্যবহারিক ক্লাস না হলে শুধু পাঠ্যবই পড়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন সম্ভব নয়। অন্য নার্সিং কলেজের তুলনায় তাঁরা পিছিয়ে পড়ছেন। কলেজের সঙ্গে ৫০ শয্যার হাসপাতাল থাকলেও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ থেকেও তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, কলেজ চালুর কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (আইবাস)। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, আইবাস কোড চালু না হওয়ায় সরকারি বরাদ্দ ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। বন্ধ রয়েছে শিক্ষাবৃত্তিও। ফলে শিক্ষা ও আবাসিক ব্যয় মেটাতে আর্থিক চাপে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী দিলরুবা দীপা বলেন, সরকারি নার্সিং কলেজে কম খরচে পড়াশোনার প্রত্যাশা নিয়ে তাঁরা ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু আইবাস চালু না হওয়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতোই নিজেদের খরচ বহন করতে হচ্ছে। এ জন্য পরিবার থেকে টাকা এনে পড়াশোনা চালাতে হচ্ছে। দ্রুত আইবাস চালুর দাবি জানান তিনি।

শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি আবাসিক সুবিধা নিয়েও সমস্যায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, হোস্টেলে গ্যাস ও পানির সংকট রয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রয়োজনীয় অন্যান্য জনবলেরও ঘাটতি রয়েছে।

আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি চালুর পর থেকে জনবলের পদ সৃজন ও আইবাস কোড চালু হয়নি। নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁরা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।