স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

গ্রামীণ স্বাস্থ্য ডেস্ক, স্থানীয় প্রতিনিধি
  ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ পি এম

বাগেরহাটে শ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে নারী চিকিৎসক অপদস্তের অভিযোগ

ফাইল ছবি

বাগেরহাট: বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে এক নারী চিকিৎসককে গালাগাল ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হানিফ হানু ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

গত ১২ অক্টোবর রাত ১২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী চিকিৎসক হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার সাকিয়া হক ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার বর্ণনা দেন।

তাঁর অভিযোগ, পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসা এক রোগীর শরীরে ক্যানুলা পরাতে প্রথমে ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং পরে একজন ওয়ার্ড বয় ব্যর্থ হন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর কক্ষে ঢুকে গালাগাল করেন এবং তাঁকে বারবার মারতে তেড়ে আসেন।

ফেসবুক লাইভে সাকিয়া হক বলেন, ৮ থেকে ১০ জনকে সঙ্গে নিয়ে এসে তাঁরা তাঁর সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। ওয়ার্ড বয় রোগীর শরীরে ক্যানুলা পরাতে না পারায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হন।

পরে হাসপাতালের কর্মী ও অন্য রোগীর স্বজনরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। মাঝেমধ্যে অন্য চিকিৎসকদের সঙ্গেও এমন আচরণ করা হয়। এ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, এ ঘটনায় তাঁরা মর্মাহত। কোনো হাসপাতালেই এ ধরনের পরিবেশ মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি জানান, হাসপাতালে ৫০০-এর বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। অথচ কর্মরত জনবল অনুমোদিত পদের এক-তৃতীয়াংশ। এমন পরিস্থিতিতেও হাসপাতালের কর্মীরা রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তিনি আরও জানান, ১৩ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানায়নি।

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আবু হানিফ হানুর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বাগেরহাট জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি সরদার লিয়াকত আলী বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ দুঃখজনক। তিনি ঘটনার নিন্দা জানান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণের ঘটনায় চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং কর্মরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।