স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় অবহেলা, রোগীদের হয়রানি, অর্থ দাবি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে দুদকের ফরিদপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা হাসপাতালটিতে এ অভিযান শুরু করেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মুস্তাফিজ বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের হয়রানি, দালালচক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো এবং আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সে বিষয়ে প্রতিবেদন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তী কার্যক্রম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
সম্প্রতি হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা নিয়ে দুটি মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। গত ৫ অক্টোবর সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তিন বছরের শিশু সাফা মারওয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার পর ট্রলি না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। স্বজনদের দাবি, ট্রলি চাইলে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় শিশুটিকে কোলে নিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও স্যালাইনসহ জরুরি বিভাগে ছুটতে হয়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুটির বাবা রবিন শেখ অভিযোগ করেন, সংকটাপন্ন অবস্থায় মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়ার পর এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে নিতে ট্রলি পাওয়া যায়নি। পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় মেয়েকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি হারান।
তবে টাকা না দেওয়ায় ট্রলি দেওয়া হয়নি-এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের উপপরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় তাকে ট্রলিতে নিতে নিষেধ করা হয়েছিল।
এদিকে, গত ৬ মে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর বীথি আক্তারের পেটে গজ রেখে সেলাই করার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর পেটে গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
গত ১৫ জুলাই দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর পেট থেকে গজ বের করা হয়। তবে ততদিনে পেটের নাড়িতে পচন ও সংক্রমণ দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে গত ৪ অক্টোবর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ অক্টোবর সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
বীথির চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাসকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু।
দুটি মৃত্যুর ঘটনা এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে ওঠা নানা অভিযোগের মধ্যে দুদকের এ অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত শেষে কী তথ্য পাওয়া যায় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, তা এখন দেখার বিষয়।