স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

শারমিন শাওন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৩ পি এম

লেবুর খোসা খাওয়া কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

ছবি : সংগৃহীত

লেবুর রসের পাশাপাশি খোসাও অনেকে রান্না, সালাদ কিংবা পানীয়তে ব্যবহার করেন। খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লেবুর খোসার কদর রয়েছে। তবে লেবুর খোসায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে—এমন উদ্বেগ থেকে প্রশ্ন উঠেছে, এটি খাওয়া কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

লেবুর খোসায় কেন থাকতে পারে কীটনাশক?

লেবু ও কমলার মতো সাইট্রাস ফল সংরক্ষণ এবং পরিবহনের সময় ছত্রাকের আক্রমণ ঠেকাতে কিছু ক্ষেত্রে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এসব রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ ফলের খোসায় থাকতে পারে। ফলে লেবুর খোসা কুচি করে খাবারে ব্যবহার করলে সেগুলো শরীরে প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে।

পানি দিয়ে ধুলেই কি ঝুঁকি দূর হয়?

লেবু খাওয়ার আগে পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি। এতে ময়লা, জীবাণু এবং কিছু উপরিভাগের দূষণ কমতে পারে। তবে ধুলেই সব ধরনের কীটনাশক সম্পূর্ণ দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কিছু রাসায়নিক খোসার সঙ্গে লেগে থাকতে পারে।

তাই লেবুর খোসা খাবারে ব্যবহার করলে ফলের উৎস সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। ফল পরিষ্কারের জন্য সাবান বা গৃহস্থালির পরিষ্কারক ব্যবহার করা যাবে না।

লেবুর খোসা খাওয়া কি বন্ধ করতে হবে?

শুধু কীটনাশকের আশঙ্কায় সবার জন্য লেবুর খোসা খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা নেই। লেবুর খোসায় ফাইবার, ভিটামিন সি ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে। তবে এসব পুষ্টি উপাদান পাওয়ার জন্য খোসা খেতেই হবে, এমন নয়।

সম্ভব হলে নির্ভরযোগ্য উৎসের লেবু বেছে নিন। জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত লেবুতেও দূষণের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই সেগুলোও ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

সব মিলিয়ে, লেবুর খোসা নিজেই বিষাক্ত—এমন সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। মূল উদ্বেগ হলো খোসায় থাকা কীটনাশক ও সংরক্ষণে ব্যবহৃত রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপদ উৎসের ফল বেছে নেওয়া এবং পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।