স্বাস্থ্য সংবাদ ব্রেকিং

ডেস্ক প্রতিবেদক
  ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৩ পি এম

বিএমইউতে বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি জোরদারে বিশেষ কর্মশালা

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) বায়োমেডিক্যাল ল্যাবরেটরিতে নিরাপত্তা, গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে ‘Strengthening Biosafety and Biosecurity in Biomedical Laboratories’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় ল্যাবরেটরি বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি জোরদার, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, গুণগত মান ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিএমইউর বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদ, আইসিডিডিআর,বি-এর বায়োসেফটি অফিস এবং বাংলাদেশ বায়োসেফটি অ্যান্ড বায়োসিকিউরিটি সোসাইটি যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় ল্যাবরেটরি পেশাজীবী, শিক্ষক, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন। এতে ল্যাবরেটরি কর্মীদের নিরাপত্তা, সংক্রামক জীবাণু ও জৈবিক উপাদান ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, ব্যক্তিগত সুরক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং কার্যকর গুণগত মান ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিয়মিত ও আধুনিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় বিএমইউর বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি Institutional Biosafety and Biosecurity Committee গঠনের প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, এ ধরনের কমিটি গঠিত হলে বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন, ঝুঁকি মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ সমন্বয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত অডিট ও মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন আইসিডিডিআর,বি-এর বায়োসেফটি অফিসের প্রধান ড. আসাদুল গনি।

কর্মশালায় বিএমইউর বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, কর্মশালায় উঠে আসা সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিগুলোকে আরও নিরাপদ, মানসম্মত ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এ জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং Institutional Biosafety and Biosecurity Committee গঠনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ল্যাবরেটরিতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি গবেষণার গুণগত মান বজায় রাখতে বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটির যথাযথ চর্চা অপরিহার্য। দক্ষ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মশালার শেষ দিনে অংশগ্রহণকারীদের সফল অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ সনদ বিতরণ করা হয়। বিএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও ইনস্টিটিউশনাল প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (আইপিসি)-এর প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেন।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, বায়োমেডিক্যাল ল্যাবরেটরিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু ল্যাবরেটরি কর্মীদের সুরক্ষার বিষয় নয়; এটি রোগী, গবেষক, পরিবেশ এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত।

ফলে বিএমইউতে বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।